আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে শুরু হতে যাচ্ছে আবহাওয়া চক্র ‘এল নিনো’র নতুন ও অত্যন্ত শক্তিশালী অধ্যায়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করে জানিয়েছে, এবারের এল নিনো চক্রটি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র হতে পারে। ফলে বিশ্বজুড়ে তীব্র খরা, ব্যাপক ফসলহানি এবং চারণভূমি শুকিয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ডব্লিউএমও আরও জানিয়েছে, সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় এবং ২২টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের প্রায় ৮৮ লাখ মানুষকে রক্ষা করতে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জরুরি ভিত্তিতে ২০ কোটি ২০ লাখ ডলারের একটি যৌথ আগাম তহবিল চালু করেছে।
এফএও-র এগ্রিকালচারাল স্ট্রেস ইনডেক্স সিস্টেম (এএসআইএস) থেকে নেওয়া গত ৪আই বছরের স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিশ্বের ৪টি প্রধান অঞ্চল কৃষিখাতে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়তে যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের এই অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক খরার আশঙ্কা ৫০ শতাংশের চেয়েও বেশি, যা নামিবিয়া, বতসোয়ানা, অ্যাঙ্গোলা, জাম্বিয়া, জিম্বাবুয়ে, মোজাম্বিক ও মাদাগাস্কারের বৃষ্টি-নির্ভর কৃষি ও পশুপালন খাতকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ফেলবে। পাশাপাশি আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে টানা পাঁচ বছরের খাদ্য সংকটের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সংঘাত যুক্ত হওয়ায় সেনেগাল, মৌরিতানিয়া, নাইজার, ইথিওপিয়া ও সুদানে খরা পরিস্থিতি আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একইভাবে মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ‘ড্রাই করিডোর’, কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, কিউবা এবং হাইতিসহ এই অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা ৭০ শতাংশ, যা দ্রুত তীব্র দুর্ভিক্ষে রূপ নিতে পারে। অন্যদিকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এল নিনোর প্রভাবে ভারতের একটি বড় অংশে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে ধান ও ভুট্টার মতো প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন ভরা মৌসুমেই চরম সংকটের মুখে পড়বে, যার প্রভাব পড়তে পারে পাকিস্তান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার বৈশ্বিক বাজারেও। এফএও-র প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক কর্মকর্তা হোর্হে আলভার-বেলত্রান জানান, উচ্চ বৈশ্বিক উষ্ণতা, সংঘাত ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার কারণে এবারের এল নিনো সবচেয়ে দুর্বল ও সীমিত সক্ষমতার অঞ্চলের ওপর মারাত্মক আঘাত হানবে।
তবে এই সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় এবার প্রযুক্তিগত বড় অগ্রগতি এনেছে এফএও। সংস্থাটি ১ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ঝুঁকির মাত্রাও সুনির্দিষ্টভাবে পরিমাপ করতে সক্ষম ‘প্রিসিশন ম্যাপিং’ বা নিখুঁত উপগ্রহ মানচিত্র প্রকাশ করেছে। এর ফলে সরকারগুলো ঢালাওভাবে সম্পদ অপচয় না করে সুনির্দিষ্ট 'হটস্পট' বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সরাসরি নগদ অর্থ, সেচ সুবিধা ও গোখাদ্য পৌঁছে দিতে পারবে। ইতিপূর্বে ২০২৩-২৪ সালের এল নিনো চক্রে দক্ষিণ আফ্রিকা ও মধ্য আমেরিকায় খরা-সহনশীল বীজ ও আগাম অর্থ বিতরণের মাধ্যমে ইতিবাচক সুফল মিলেছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মাঠপর্যায়ের নেটওয়ার্কের মধ্যে সঠিক সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে কৃষকেরা চাষাবাদ পিছিয়ে দেওয়া বা খরা-সহনশীল ফসল বেছে নেওয়ার মতো জীবনরক্ষাকারী সিদ্ধান্ত সময়মতো নিতে পারবেন।
১২ জেলায় তীব্র ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত
পূর্বাঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা