বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৬৪৮ শিশুর প্রাণহানি ঘটল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, একদিনে নতুন করে ৭৩৩ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে, আর ৬৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ফলে সারা দেশে মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২৪৮ জনে, আর উপসর্গ রয়েছে ৮৪ হাজার ৮৯৯ জনের শরীরে।
হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৯ হাজার ৬০৬ জন শিশু, যাদের মধ্যে ৬৫ হাজার ৮৫২ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অনেকেই অপুষ্টিতে ভুগছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি এবং সচেতনতার অভাব এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তারা দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—শিশুদের জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
বাংলাদেশে হাম একসময় নিয়ন্ত্রণে ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকা গ্রহণে অনীহা, গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে আবারও রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
এই সংকটের মধ্যে অভিভাবকদের আতঙ্ক বাড়ছে। অনেকেই সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, আতঙ্ক নয়, সচেতনতা ও প্রতিরোধই এখন সবচেয়ে জরুরি।
চিকিৎসা সেবা ঘরে ঘরে পৌঁছাবে বর্তমান সরকার : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দৈনিক খবর সংযোগের উদ্যোগে ‘মৌসুমি ফল উৎসব’ অনুষ্ঠিত