খাবার স্যালাইনের উদ্ভাবক ড. রিচার্ড ক্যাশ মারা গেছেন

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৪, ১২:৩০ পিএম

জনস্বাস্থ্য গবেষক ও খাবার স্যালাইনের অন্যতম উদ্ভাবক ‌‘ফ্রেন্ডস অব লিবারেশন ওয়ার’ ড. রিচার্ড অ্যালান ক্যাশ মারা গেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য সরকার তাকে ‘ফ্রেন্ডস অব লিবারেশন ওয়ার’ সম্মাননা দিয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) ব্র্যাকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ড. রিচার্ড ক্যাশের মৃত্যুর সংবাদ জানিয়ে ব্র্যাক পরিবারের পক্ষ থেকে গভীরভাবে শোক প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের শিক্ষক ড. রিচার্ড ক্যাশ মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহরে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

ড. রিচার্ড ক্যাশ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিদেশে জনমত তৈরি, অর্থ সংগ্রহ ও স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে 'ফ্রেন্ডস অব লিবারেশন ওয়ার' সম্মাননা প্রদান করে।

ড. ক্যাশ ১৯৪১ সালের ৯ জুন জন্মগ্রহণ করেন। জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও ড. রিচার্ড ক্যাশ বাংলাদেশকে তার দ্বিতীয় বাড়ি (সেকেন্ড হোম) বলে মনে করতেন।

তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু এবং সুদীর্ঘ সময়ের সহযাত্রী। বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিস্তৃত গবেষণা ও প্রভূত অর্জনের পেছনে তার অসামান্য অবদান রয়েছে। ১৯৭০-এর দশকে প্রাণঘাতী ডায়রিয়া নিরাময়ে সহগবেষক হিসেবে তিনি খাবার স্যালাইন ফর্মুলার চূড়ান্ত রূপ দেন। তার এই যুগান্তকারী উদ্ভাবন ডায়রিয়া থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষায় সহায়ক হয়।

ড. রিচার্ড ক্যাশ ১৯৬৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি মেডিকেল স্কুল থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করে চিকিৎসক হিসেবে ঢাকার কলেরা রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে (বর্তমান আইসিডিডিআর,বি) যোগদান করেন। এখানে তিনি অন্য গবেষকদের সঙ্গে মিলে ডায়রিয়া নিরাময়ে খাবার স্যালাইনের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করে সফলতা অর্জন করেন।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ ড. রিচার্ড ক্যাশের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, জনস্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য রিচার্ড ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। বিশেষত যেখানে সুযোগ-সুবিধা সীমিত, সেখানে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে একাগ্রচিত্তে, অক্লান্তভাবে কাজ করে গেছেন তিনি। তার দেখানো পথ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য খাতের পেশাজীবীদের অনুপ্রাণিত করবে; আমাদের স্মরণ করিয়ে দেবে, খুব সহজ এবং ব্যয় সাশ্রয়ী সমাধানও সারা বিশ্বের স্বাস্থ্যখাতে বিরাট পরিবর্তন আনতে পারে। তার মৃত্যুতে আমি ব্যক্তিগতভাবে একজন মেন্টর ও একজন বন্ধুকে হারিয়েছি, যার পরামর্শ, প্রজ্ঞা ও তীক্ষ্ণ রসবোধ আমি খুব মিস করব।

AHA/FI
আরও পড়ুন