যে কোনো মানুষের কাছে তার চুল ভীষণ প্রিয়। চুলের যত্নে তাই নানা ধরনের যত্নআত্তির বিষয়টি সবাই মেনে চলার চেষ্টা করেন। সেই হিসাবে ফ্যাশনেরও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল চুল বা চুলের স্টাইল। কারণ চুলের স্টাইল অনায়াসে বদলে দিতে পারে একজন মানুষের চেহারা। চুল কাটার ধরনের জন্য যেমন কারো বয়স কম দেখাবে, তেমনই হেয়ারস্টাইলের জন্য অনেককে বয়স্কও দেখায় তা তিনি পুরুষ-মহিলা যেই হোন না কেন। আপনি যদি ফ্যাশন সচেতন হন বা নিজেকে উপস্থাপনের বিষয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে চান তাহলে চুল কাটার সময় সচেতন থাকতে হবে। হেয়ার স্টাইলের সময় কী কী বিষয় মেনে চললে আপনার সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা আনতে পারবেন, চলুন জেনে নেওয়া যাক।

মুখের আদল অনুযায়ী হেয়ার কাট
আমাদের কারোর মুখের আদল এক নয়। কারো চৌকো তো কারো মুখের গঠন লম্বাটে, গোল, পানপাতা হয়ে থাকে। এর ফলে বিভিন্ন মুখের গঠনের সঙ্গে মানানসই বিভিন্ন রকম হেয়ারকাট দেয়া হয়ে থাকে। কোনও একটি বিশেষ হেয়ারকাট একজনকে মানিয়েছে বলে আপনাকেও তা মানাবেই, তা নয়। আপনার মুখের সঙ্গে কোন ধরনের স্টাইল যাবে সেটা প্রথমেই পার্লারে গিয়ে স্টাইলিস্টের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করে নিন। আপনার মুখমণ্ডলের আকৃতি অনুযায়ী হেয়ারকাট আপনাকে শুধু সুন্দরই করে তুলবে না বরং অনেকটা আত্নবিশ্বাসী করে তুলবে।
কপি করবেন না
শুধু মুখের আকৃতি নয়, কোনও বিশেষ হেয়ার স্টাইল আপনাকে মানাবে কিনা তা নির্ভর করে আপনার চুলের ঘনত্ব, চুলের ধরন এবং টেক্সচারের উপর। অনেকেই বিভিন্ন তারকাদের দেখে চুলের কাট কপি করতে চান। কিন্তু এ কথা মাথায় রাখা জরুরি যে, স্ট্রেট কিংবা ঢেউ খেলানো চুলে যে হেয়ার কাট দেখতে ভাল লাগছে, একই হেয়ার কাটের ক্ষেত্রে কোঁকড়ানো চুলে সেই লুক না আসাটাই স্বাভাবিক।
হেয়ার স্টাইলিংও জরুরি
শুধুমাত্র কাটলেই হল না, যে কোনও লুক সম্পূর্ণ করার জন্য স্টাইলিংও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। রোজ যে লুকে অফিস যান, একই হেয়ারকাটের ক্ষেত্রে স্টাইলিং সামান্য বদলে ফেললেই চলে আসতে পারে পার্টি লুক। কার্লিং কিংবা স্ট্রেটেনিং আয়রন এবং হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করে বিভিন্ন লুক পাওয়া সম্ভব। তার জন্য যে সব সময় পার্লারে যেতে হবে তেমনটাও নয়। নিজে কিংবা কারও সাহায্য নিয়ে ঘরে বসেই চুলকে বিভিন্ন ভাবে স্টাইল করতে পারেন।

বয়স ভেদে হেয়ার স্টাইল
হেয়ার কাটিংয়ের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বয়স। বয়স বাড়লে চুল পড়া, কিংবা চুল পেকে যাওয়ার সমস্যা খুবই স্বাভাবিক। সেই সঙ্গে ধুলো-বালি, দূষণ তো রয়েছেই। চুল পাতলা হয়ে গেলে মন খারাপ হয়। এ অবস্থায় আপনাকে সাহায্য করতে পারে হেয়ারকাট। নিয়মিত চুল পড়ার সমস্যায় ভুগলে লম্বা চুলের বদলে তা ছোট করে কেটে নিলে অনেকটাই বদলে যেতে পারে লুক।
চুলের স্বাস্থ্যে নজর রাখুন
সুন্দর চুল পেতে হলে চুলের স্বাস্থ্যের বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে। শুকনো, প্রাণহীন চুল দেখতে না চাইলে নিয়মিত চুলের যত্ন নিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত দু-তিনবার শ্যাম্পু, এবং তারপর কন্ডিশনিং জরুরি। শ্যাম্পু করার আগে গরম তেল দিয়ে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করলে চুলের স্বাস্থ্য ভাল থাকবে। সপ্তাহে একবার প্রোটিন প্যাক এবং নিয়মিত স্পা করতে পারেন। স্টাইলিং-এর জন্য ব্লো ড্রাই, স্ট্রেটেনিং, কার্লিং আয়রন যথাসম্ভব কম ব্যবহার করুন।
