শীতে ব্যথামুক্ত থাকতে যা করবেন

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম

পৌষের কনকনে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন। এ বছর শীতের তীব্রতা গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় শহরবাসী ও গ্রামবাসী উভয়ই বিপাকে পড়েছেন। ঠান্ডার এই প্রকোপের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পেশি ও হাড়ের সংযোগস্থলের ব্যথা। বিশেষ করে বয়স্কদের কষ্ট চরমে পৌঁছেছে। এই অসহনীয় ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই ‘হিটিং প্যাড’ বা গরম সেঁকের ওপর ভরসা করছেন। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক নিয়ম মেনে গরম সেঁক নিলে ব্যথামুক্ত থাকা সম্ভব।

গরম সেঁকের বহুমুখী উপকারিতা

চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণাপত্র ও ফিজিওথেরাপিস্টদের মতে, ব্যথানাশক ওষুধের চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে গরম সেঁক দ্রুত আরাম দেয়। এর প্রধান কিছু উপকারিতা হলো:

১. রক্ত চলাচল বৃদ্ধি: শরীরে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হলে ব্যথা বাড়ে। গরম সেঁক দিলে আক্রান্ত স্থানের রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়, ফলে প্রতিটি কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় এবং দ্রুত ব্যথা উপশম হয়।

২. হাঁটাচলা সহজ করা: শীতে মাংসপেশি শক্ত হয়ে যায়। হালকা গরম সেঁক দিলে কাঁধ, কোমর ও পায়ের পেশি নমনীয় হয়, যা বিশেষ করে বয়স্কদের চলাফেরাকে সহজ করে তোলে।

৩. আর্থ্রাইটিসের কষ্ট লাঘব: যাদের হাড়ের ক্ষয় বা আর্থ্রাইটিস আছে, ঠান্ডায় তাদের হাত-পা নাড়াচাড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে। গরম সেঁক তাদের অস্থিসন্ধির জড়তা দূর করে।

৪. নারীদের ব্যথা উপশম: জরায়ুর পেশি সংকোচন-প্রসারণজনিত ব্যথা কমাতে গরম সেঁক অত্যন্ত কার্যকর। এটি দ্রুত পেশিকে শিথিল করে আরাম দেয়।

৫. শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায়: অতিরিক্ত ঠান্ডায় শরীরের তাপমাত্রা কমে গেলে পায়ের পাতার নিচে গরম সেঁক দিলে দেহের উত্তাপ ফিরে আসে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক হয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, গরম সেঁক নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি: ১. সরাসরি চামড়ায় খুব বেশি গরম হিটিং প্যাড ব্যবহার করবেন না; একটি পাতলা কাপড় ব্যবহার করা নিরাপদ। ২. ঘুমানোর সময় ইলেকট্রিক হিটিং প্যাড অন করে রাখা বিপজ্জনক হতে পারে। ৩. তীব্র জ্বালা বা ক্ষত থাকলে সেখানে সেঁক দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তীব্র শীতে হাড়ের যত্ন নিতে গরম সেঁকের পাশাপাশি পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরা এবং কুসুম গরম পানি পান করা প্রয়োজন। তবে ব্যথা যদি তীব্র হয় এবং সেঁক দেওয়ার পরেও না কমে, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

NB/FJ
আরও পড়ুন