ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই প্রকৃতিতে বইছে হিমেল হাওয়া। আর এই তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়ছে বাবা-মায়েদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। শীত এলেই শিশুদের মধ্যে নাক দিয়ে পানি পড়া, জ্বর ও ক্রমাগত কাশির মতো সমস্যাগুলো যেন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়ায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কিত না হয়ে বৈজ্ঞানিক উপায়ে সঠিক যত্ন নিলে এই মৌসুমেও শিশুকে রাখা সম্ভব সম্পূর্ণ সুস্থ।
কেন শীতে শিশুরা বেশি অসুস্থ হয়
শীতকালে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে একটি স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। গবেষকদের মতে, শীতের শুষ্ক বাতাস শিশুদের নাক ও গলার ভেতরের আঠালো ঝিল্লি বা মিউকাস মেমব্রেন শুকিয়ে ফেলে। এই ঝিল্লিটিই মূলত ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে কাজ করে। এই স্তরটি দুর্বল হয়ে গেলেই জীবাণু সহজেই শরীরে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়।
শিশুদের সাধারণ শীতকালীন স্বাস্থ্য সমস্যা:
- ঘন ঘন সর্দি ও কাশি।
- গলা ব্যথা ও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ।
- সিজনাল ফ্লু।
- অ্যাজমা বা হাঁপানির প্রকোপ বৃদ্ধি।
- অ্যালার্জি ও শারীরিক ক্লান্তি।
শিশুকে সুস্থ রাখতে ৫টি কার্যকরী পদক্ষেপ
বিশেষজ্ঞরা শিশুদের শীতকালীন রোগবালাই থেকে দূরে রাখতে নিম্নোক্ত পরামর্শগুলো মেনে চলতে বলছেন:
১. পুষ্টিকর ও রঙিন খাবার: শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার নিশ্চিত করুন। রঙিন শাকসবজি (গাজর, পালং শাক, কুমড়া), ফল (কমলা, আমলকী), বাদাম ও বীজ শিশুকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে শক্তি জোগায়।
২. পর্যাপ্ত সূর্যালোক ও খেলাধুলা: হাড়ের গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য ভিটামিন ডি অপরিহার্য। প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট শিশুকে রোদে খেলতে দিন। এতে শরীরের ক্লান্তি দূর হয় এবং জীবনীশক্তি বৃদ্ধি পায়।
৩. শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা: তৃষ্ণা না পেলেও শিশুকে পর্যাপ্ত পানি পান করাতে হবে। এছাড়া গরম স্যুপ, ডাবের পানি বা হালকা গরম পানি পান করালে শরীরের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং শ্লেষ্মা পরিষ্কার হয়।

৪. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম: অসুস্থতা রোধে ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। গভীর ঘুম শরীরের কোষ মেরামত ও পুনর্গঠনে সাহায্য করে। তাই শিশুর জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি।
৫. স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতা: শিশুকে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করান। বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার এবং তীব্র শীতে ঠান্ডা পানীয় বা আইসক্রিম এড়িয়ে চললে সর্দি-কাশির ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
বিশেষজ্ঞ মত, ‘শীত মানেই অসুখ নয়, বরং বাড়তি সচেতনতা। সঠিক পুষ্টি আর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে শীতের আনন্দ শিশুরা সুস্থভাবেই উপভোগ করতে পারবে।’
শীতে ব্যথামুক্ত থাকতে যা করবেন
শীতের পোশাক কখন ধোবেন 