কোরবানির মাংস খেতে গিয়ে গলায় হাড় বিঁধলে যা করবেন

আপডেট : ২৮ মে ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

ঈদুল আজহা মানেই ঘরে ঘরে গরু বা খাসির মাংসের নানা আয়োজন। পরিবার, আত্মীয়স্বজন আর অতিথিদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়ার ব্যস্ততায় অনেক সময় তাড়াহুড়া করে খেতে গিয়ে গলায় হাড় আটকে যাওয়ার মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতিও তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন অবস্থায় আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকেই গলায় হাড় বিঁধলে শুকনা ভাত গিলে ফেলেন কিংবা আঙুল ঢুকিয়ে হাড় বের করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এসব ভুল পদ্ধতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই কী করা উচিত আর কোন কাজগুলো এড়িয়ে চলতে হবে—তা জানা জরুরি।

কেন গলায় হাড় আটকে যায়?

খাবার গেলার সময় মুখ, জিহ্বা ও গলার পেশিগুলো একসঙ্গে কাজ করে খাবারকে খাদ্যনালি হয়ে পাকস্থলীতে পাঠায়। কিন্তু মাংস ঠিকভাবে চিবানো না হলে ছোট বা ধারালো হাড় খাদ্যনালির কোনো অংশে আটকে যেতে পারে।

বিশেষ করে তাড়াহুড়া করে খাওয়া, গল্প করতে করতে খাওয়া কিংবা দাঁতের সমস্যার কারণে ভালোভাবে চিবাতে না পারলে এই ঝুঁকি বেড়ে যায়। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বেশি দেখা যায়।

গলায় হাড় আটকে গেলে প্রথমে কী করবেন?
কাশি দেওয়ার চেষ্টা করুন

অনেক সময় হালকা কাশি দিলেই ছোট হাড় সরে যায়। তবে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জোরে কাশি দেওয়ার চেষ্টা করা ঠিক নয়।

ধীরে পানি পান করুন

কয়েক ঢোক পানি ধীরে ধীরে পান করলে কখনো কখনো আটকে থাকা হাড় নিচে নেমে যেতে পারে। তবে গিলতে খুব বেশি কষ্ট হলে জোর করে পানি খাওয়া উচিত নয়।

নরম খাবার খাওয়া যেতে পারে

অনেকে অল্প পরিমাণ নরম ভাত, কলা বা পানিতে ভেজানো রুটি খান। এতে হাড় সরে যেতে পারে। তবে এটি খুব সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। কারণ ধারালো হাড় হলে তা আরও গভীরে আটকে যেতে পারে।

কিছুটা সময় অপেক্ষা করুন

অনেক সময় গলায় হাড়ের আঁচড় লাগলেও মনে হয় যেন কিছু আটকে আছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেই অস্বস্তি কমেও যেতে পারে।

যেসব ভুল বিপদ বাড়াতে পারে

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হলো আঙুল ঢুকিয়ে হাড় বের করার চেষ্টা করা। এতে গলার ভেতরে ক্ষত তৈরি হতে পারে এবং হাড় আরও গভীরে ঢুকে যেতে পারে।

একইভাবে শুকনা ভাত বা বড় খাবারের দলা জোর করে গিলে ফেলার অভ্যাসও নিরাপদ নয়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ ঘরোয়া পদ্ধতি প্রয়োগ না করাই ভালো।

কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?

নিচের লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে—

শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
কথা বলতে না পারা
লালা গিলতে সমস্যা হওয়া
বুকে ব্যথা
অতিরিক্ত কাশি বা দম বন্ধ লাগা
মুখ নীলচে হয়ে যাওয়া

চিকিৎসকেরা প্রয়োজন হলে এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে আটকে থাকা হাড় বের করে থাকেন। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে খাদ্যনালিতে ক্ষত, সংক্রমণ বা আরও গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে।

শ্বাস বন্ধ হয়ে এলে কী করবেন?

যদি কেউ শ্বাস নিতে না পারেন বা কথা বলতে না পারেন, তাহলে ধরে নিতে হবে হাড়টি শ্বাসনালিতে আটকে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

প্রথমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কাশি দিতে উৎসাহিত করতে হবে। এরপর তাকে সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে পিঠে কয়েকবার চাপড় দেওয়া যেতে পারে। প্রশিক্ষণ থাকলে হাইমলিখ ম্যানুভার প্রয়োগ করা যেতে পারে, যেখানে পেটের ওপর বিশেষ কৌশলে চাপ প্রয়োগ করে আটকে থাকা বস্তু বের করার চেষ্টা করা হয়।

সতর্ক থাকলেই এড়ানো সম্ভব বিপদ

চিকিৎসকদের পরামর্শ, মাংস ধীরে ধীরে ও ভালোভাবে চিবিয়ে খেতে হবে। শিশু ও বয়স্কদের খাওয়ার সময় বাড়তি নজরদারি জরুরি। ছোট হাড় আছে কি না, আগে দেখে নেওয়ার অভ্যাসও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে পারে।

একটু সতর্কতা ও সচেতনতা ঈদুল আজহা–র আনন্দকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক রাখতে পারে পুরো পরিবারের জন্য।

AS
আরও পড়ুন