যে ভুলগুলো শুষে নিচ্ছে আপনার সারাদিনের শক্তি

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

সকালের শুরুটা কেমন হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে পুরো দিনটি কতটা প্রাণবন্ত কাটবে। অনেকেই আছেন যারা ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই এক চরম ক্লান্তি অনুভব করেন এবং সারা দিনই এক ধরনের অবসাদ ভর করে থাকে। বাইরে থেকে একে সাধারণ অলসতা মনে হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে এর পেছনে দায়ী আমাদের সকালের কিছু ভুল অভ্যাস, যা অলক্ষ্যেই শরীরের ‘কর্টিসল’ বা স্ট্রেস হরমোনের স্বাভাবিক ছন্দকে ওলটপালট করে দিচ্ছে।

কিডনির ওপর অবস্থিত অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এই কর্টিসল হরমোন আমাদের ঘুম থেকে ওঠা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও শক্তি উৎপাদনের প্রধান নিয়ামক। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে শরীরে এই হরমোনের মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। কিন্তু এই সময়েই আমরা এমন কিছু ভুল করে বসি, যা আমাদের অজান্তেই ক্লান্তির দিকে ঠেলে দেয়।

ওজনের ভয়ে শর্করাকে ‘না’ বলা

আজকাল ওজন কমানোর হিড়িকে অনেকেই সকালের খাবার থেকে ভাত বা রুটির মতো শর্করা পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেন। পুষ্টিবিদদের মতে, এটি একটি বড় ভুল। পরিমিত শর্করা শরীরে ‘সেরোটোনিন’ হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে, যা মানসিক চাপ কমিয়ে ভালো ঘুমে ভূমিকা রাখে। তাই সকালের খাবার থেকে শর্করা পুরোপুরি ছেঁটে না ফেলে সুষম খাবার বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

নাশতা ফাঁকি দিয়ে কফি বা ধূমপান

অনেকেরই সকাল শুরু হয় স্রেফ এক কাপ কফি কিংবা ধূমপানের অভ্যাসে। পুষ্টিকর নাশতা না খেয়ে ক্যাফেইন বা নিকোটিন শরীরে প্রবেশ করালে কর্টিসলের মাত্রা দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে আটকে থাকে। এর ফলে মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পেটের চারপাশে চর্বি জমার পাশাপাশি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ে।

খালি পেটে শুধু ফল খাওয়া

ফল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও খালি পেটে শুধু ফল খাওয়া কিংবা ওজনের ভয়ে ফল পুরোপুরি এড়িয়ে চলা—দুটিই ক্ষতিকর। ফলের প্রাকৃতিক চিনি খালি পেটে দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, সকালের নাশতায় ফলের সাথে প্রোটিন, আঁশ বা স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার রাখা উচিত, যাতে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ক্লান্তিহীন দিনের জন্য করণীয়

সকালের এই ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার পাশাপাশি সারাদিন কর্মক্ষম থাকতে প্রয়োজন কিছু ছোট সচেতনতা। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত হালকা শরীরচর্চা, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অভ্যাস এবং সকালের সময়টায় পরিবারের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখা কর্টিসল হরমোনকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। কঠোর নিয়মের বেড়াজালে না জড়িয়ে প্রতিদিনের এই ছোট ছোট অভ্যাসই আপনাকে দিতে পারে একটি ক্লান্তিহীন ও প্রাণবন্ত দিন।

SN
আরও পড়ুন