প্রতিদিন সকালে একই নাস্তা খেলে কী শরীরের ক্ষতি হয়?

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৭ এএম

ব্যস্ততার কারণে প্রতিদিন সকালে একই খাবার খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। এতে সরাসরি কোনো ক্ষতি নেই। বরং পুষ্টিকর ও সুষম খাবার হলে একই নাস্তা নিয়মিত খাওয়ার কিছু সুবিধাও রয়েছে। তবে খাবারে পুষ্টির ঘাটতি থাকলে বা খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য না থাকলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

প্রতিদিন একই নাস্তা খাওয়ার অন্যতম সুবিধা হলো খাবারের পরিকল্পনা সহজ হওয়া, সময় বাঁচানো এবং খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা। তবে একই খাবারে প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি না থাকলে বিপত্তি দেখা দিতে পারে। প্রতিদিন একই ধরনের খাবার খেলে খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য কমে যায়। ফলে শরীর বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

বিশেষ করে সকালের নাস্তায় খারাপ ধরনের শর্করা ও চিনির পরিমাণ বেশি এবং প্রোটিন ও আঁশের পরিমাণ কম থাকলে তা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হবে না।

সকালের নাস্তাকে স্বাস্থ্যকর করবেন যেভাবে

প্রতিদিন নতুন করে নাস্তা তৈরি করার প্রয়োজন নেই। বরং একটি সুষম খাবারের কাঠামো তৈরি করে সময় অনুযায়ী এর উপাদানগুলো পরিবর্তন করা যেতে পারে। যেমন পূর্ণ শস্যের খাবারের সঙ্গে প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডিম, পনির, দই, টোফু বা ডাল রাখা যেতে পারে। এর সঙ্গে ফল বা সবজি এবং বাদাম বা বীজ যোগ করা যায়।

সাপ্তাহিক ভিত্তিতে নাস্তায় ফল, শস্য ও প্রোটিনের উৎস পরিবর্তন করা যেতে পারে। অর্থাৎ প্রতিদিন সকালের নাস্তা বদলানোর চেয়ে পুরো খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পুষ্টি ও বৈচিত্র্য নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সুস্বাস্থ্যের জন্য সকালের নাস্তা কেন গুরুত্বপূর্ণ

‘দ্য জার্নাল অব নিউট্রিশন, হেলথ অ্যান্ড এজিং’-এ প্রকাশিত ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, সকালের খাবারের মান ও পরিমাণ দুটিই সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, পুষ্টিকর সকালের নাস্তা হৃদ্‌যন্ত্রের সুরক্ষা এবং বিপাকীয় কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, দৈনিক মোট ক্যালরির ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সকালে গ্রহণ করলে শরীরে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। যারা এভাবে সকালের খাবার গ্রহণ করেন, তাদের হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির স্বাস্থ্য খুব কম বা অতিরিক্ত পরিমাণে সকালের খাবার গ্রহণকারীদের তুলনায় ভালো ছিল।

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত পরিমাণে সকালের নাস্তা গ্রহণকারীদের শরীরে চর্বির পরিমাণ বেশি ছিল এবং বিপাকীয় চাপ তৈরির সম্ভাবনাও ছিল। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন নিম্নমানের সকালের খাবার গ্রহণের সঙ্গে ধীরে ধীরে কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

গবেষণাটি আরও বলছে, স্বাস্থ্যকর সকালের নাস্তা শরীরের স্বাভাবিক দৈনন্দিন ছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাবার হজম ও বিপাকক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে। তাই শুধু সকালে কিছু খাওয়াই যথেষ্ট নয়; খাবারে কী ধরনের পুষ্টি রয়েছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সকালে সুষম ও পুষ্টিকর খাবারের অভ্যাস গড়ে তুললে তা দিনের বাকি সময়ের খাদ্যাভ্যাসেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রতিদিন একই নাস্তা খেলেও সেটি যদি পরিমিত, পুষ্টিকর ও প্রয়োজনীয় উপাদানে সমৃদ্ধ হয়, তাহলে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। তবে সময়ের সঙ্গে খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

এএম
আরও পড়ুন