বয়স বৃদ্ধির গতি কমাতে যে অভ্যাসে জোর দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম

বয়স বাড়বেই, তবে শরীরের জৈবিক বয়স বৃদ্ধির গতি ধীর করতে ভূমিকা রাখতে পারে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। এ জন্য নির্দিষ্ট কোনো ডায়েট মেনে চলা বাধ্যতামূলক নয়; বরং নিজের পছন্দ, সামর্থ্য ও জীবনযাপনের সঙ্গে মানানসই সুষম খাবারই হতে পারে সুস্থ থাকার উপায়। জার্মানির গবেষকদের একটি বড় গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।

গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার কমিউনিকেশনস’-এ প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ভূমধ্যসাগরীয়, নর্ডিক, উদ্ভিদভিত্তিক কিংবা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ড্যাশ ডায়েট বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই শরীরের জৈবিক বয়স বৃদ্ধির গতি কমার সঙ্গে সম্পর্কিত।

যেভাবে পরিচালিত হয়েছে গবেষণা

গবেষণায় প্রায় সাড়ে সাত হাজার নারী ও পুরুষের খাদ্যাভ্যাস এবং রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। মানুষের জন্মসাল অনুযায়ী প্রকৃত বয়সের পাশাপাশি শরীরের জৈবিক বয়স কত দ্রুত বাড়ছে, তা বোঝার চেষ্টা করেন তাঁরা। এ জন্য জার্মানির ডিজেডএনই ইনস্টিটিউটের ‘রাইনল্যান্ড স্টাডি’ এবং আরেকটি গবেষণা প্রকল্প ‘ইপিক-পটসডাম’-এর তথ্য ব্যবহার করা হয়।

শরীরের জৈবিক বয়স নির্ধারণে বিজ্ঞানীরা ‘এপিজেনেটিক ক্লক’ বা এপিজেনেটিক ঘড়ি ব্যবহার করেন। ডিএনএ মিথাইলেশনের মাধ্যমে কোষের কার্যক্রমে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটছে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে এসব পরিবর্তনের সম্পর্ক কী, তা বিশ্লেষণ করা হয়।

খাদ্যাভ্যাস আলাদা হলেও উপকার মিলেছে

গবেষণায় ১০ ধরনের খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিটিই জৈবিক বয়স বৃদ্ধির গতি ধীর হওয়ার সঙ্গে কমবেশি সম্পর্কিত।

গবেষক দলের প্রধান পুষ্টিবিজ্ঞানী জুলিয়ানা তাভারেস জানান, বিভিন্ন ডায়েটের লক্ষ্য ও খাবারের ধরন এক নয়। ফলে কেউ একটি খাদ্যাভ্যাসের নিয়ম ভালোভাবে অনুসরণ করতে পারলেও অন্যটি তাঁর জন্য কঠিন হতে পারে। তাই সবার জন্য একটি নির্দিষ্ট ডায়েটই সবচেয়ে উপযোগী এমন ধারণার ভিত্তি নেই।

গবেষণার ইতিবাচক দিক হলো, মানুষ নিজের পছন্দ, সংস্কৃতি, বাজেট ও রুচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বেছে নিতে পারেন। অর্থাৎ, সুস্থ থাকতে ব্যয়বহুল বা কঠোর কোনো ডায়েট অনুসরণ করতেই হবে, এমন নয়।

ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে বিশেষ পর্যবেক্ষণ

গবেষণায় আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে। ধূমপান করেন না এমন ব্যক্তিদের তুলনায় ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও ধীরগতির জৈবিক বয়স বৃদ্ধির সম্পর্ক আরও জোরালো দেখা গেছে।

গবেষকদের মতে, ধূমপানের কারণে শরীরে ব্যাপক ক্ষতি হয়। স্বাস্থ্যকর খাবার এ ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সুষম খাবার ধূমপানের ক্ষতি পুরোপুরি দূর করতে পারে। ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং এর ঝুঁকি কমাতে ধূমপান ছেড়ে দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

বিভিন্ন ডায়েটের প্রভাবের মধ্যে মিল

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, বিভিন্ন ধরনের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত জৈবিক প্রক্রিয়ার ৭০ শতাংশেরও বেশি অভিন্ন। কোষের গঠন, কোষের মধ্যে যোগাযোগ এবং বিপাকক্রিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় এসব খাদ্যাভ্যাসের প্রভাবের মধ্যে মিল রয়েছে।

তবে কিছু খাদ্যাভ্যাসের নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ প্রভাবও দেখা গেছে। যেমন, ড্যাশ ডায়েট হৃদযন্ত্রের সুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রক্রিয়ায় বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, মাইন্ড ডায়েট মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি ও জ্ঞানীয় কার্যক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট কোনো ডায়েট চার্ট নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে সামগ্রিকভাবে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি ধূমপান পরিহারসহ স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ।

এএম
আরও পড়ুন