রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ার পর বুক জ্বালাপোড়া, মুখে টক বা তেতো স্বাদ কিংবা গলায় অস্বস্তি—এ ধরনের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। কখনো ঘুমের মধ্যেও মনে হতে পারে, পাকস্থলীর খাবার বা তরল গলার দিকে উঠে আসছে। মাঝেমধ্যে এমন সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক হলেও নিয়মিত রাতে অ্যাসিডিটির উপসর্গ দেখা দিলে তা ঘুম ও দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।
রাতে অ্যাসিডিটির সমস্যা সাধারণত খাবারের ধরন, খাওয়ার সময় এবং জীবনযাপনের কিছু অভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে রাতে দেরিতে ভারী খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত কফি পান এবং খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা বাড়তে পারে। যাঁদের আগে থেকেই এ ধরনের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।
অ্যাসিড রিফ্লাক্স হলো এমন একটি অবস্থা, যখন পাকস্থলীর খাবার ও অ্যাসিড উল্টো পথে খাদ্যনালিতে উঠে আসে। মুখ থেকে পাকস্থলী পর্যন্ত খাবার পৌঁছে দেওয়ার নালিকে খাদ্যনালি বলা হয়। এ সমস্যা ঘন ঘন হলে এবং অস্বস্তিকর উপসর্গ তৈরি করলে তা গ্যাস্ট্রো-ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ বা জিইআরডি (GERD) হতে পারে।
দেরিতে রাতের খাবার খেলে কেন বাড়ে অ্যাসিডিটি
ব্যস্ততার কারণে অনেকেরই নিয়মিত খাবারের সময় ঠিক থাকে না। কেউ দুপুরের খাবার বাদ দেন বা দেরিতে খান, আবার কেউ দিনের বেশির ভাগ সময় চা-কফির ওপর নির্ভর করেন। পরে রাতে একসঙ্গে বেশি খাবার খেয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘুমাতে যান। এতে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের আশঙ্কা বাড়তে পারে।
খাবার খাওয়ার পর পাকস্থলী থেকে তা হজম হয়ে বের হতে কিছুটা সময় লাগে। এ সময়ের মধ্যেই শুয়ে পড়লে পাকস্থলীর খাবার ও অ্যাসিড সহজে খাদ্যনালির দিকে উঠে আসতে পারে। বিশেষ করে পাকস্থলী ও খাদ্যনালির সংযোগস্থলের পেশিবলয় বা ভালভ ঠিকভাবে বন্ধ না হলে এ সমস্যা বেশি হয়।
ঘুমের সময় শরীরে লালা তৈরি কমে যায় এবং ঢোক গেলার প্রবণতাও কম থাকে। ফলে খাদ্যনালিতে উঠে আসা অ্যাসিড পরিষ্কার হওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এ কারণে রাতে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের অস্বস্তি বেশি অনুভূত হতে পারে।
অ্যাসিডিটি মানেই শুধু বুক জ্বালাপোড়া নয়
অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সবচেয়ে পরিচিত উপসর্গ বুক জ্বালাপোড়া। তবে সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের লক্ষণ দেখা যায় না। কারও ঘুম ভাঙে মুখে তেতো স্বাদ নিয়ে, আবার কারও গলায় তরল উঠে আসার অনুভূতি, দীর্ঘস্থায়ী গলার অস্বস্তি কিংবা কাশি হতে পারে।
দৈনন্দিন অভ্যাসের সঙ্গে হজমের সমস্যার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দ্য ক্লিনিকসের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এবং জেনারেল মিনিমাল অ্যাকসেস ও গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সার্জন ডা. সৌরভ বনসাল বারবার দেখা দেওয়া রিফ্লাক্সের উপসর্গের কারণ শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তবে গলায় অস্বস্তি বা কাশি হলেই তা অ্যাসিডিটির কারণে হচ্ছে, এমন নয়। অন্য রোগেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
যেসব খাবার ও অভ্যাসে বাড়তে পারে অ্যাসিড রিফ্লাক্স
সবার ক্ষেত্রে একই খাবার অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণ হয় না। কারও ক্ষেত্রে কফি, অ্যালকোহল, চকলেট, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার কিংবা বেশি চর্বিযুক্ত খাবার সমস্যা বাড়াতে পারে। আবার অন্য কেউ এসব খাবার খেয়েও অস্বস্তি অনুভব নাও করতে পারেন।
তাই একসঙ্গে অনেক ধরনের খাবার বাদ না দিয়ে কোন খাবার খেলে বারবার সমস্যা হচ্ছে, তা খেয়াল রাখা উচিত।
খাবারের পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত পেট ভরে খেয়ে শুয়ে পড়লে অস্বস্তি বাড়তে পারে। শরীরের অতিরিক্ত ওজন পাকস্থলীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া হায়াটাস হার্নিয়া নামের একটি শারীরিক অবস্থাও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণ হতে পারে।
রাতে অ্যাসিডিটি কমাতে যেসব অভ্যাস বদলাবেন
রাতের খাবার ও ঘুমের সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন আনলে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের উপসর্গ কমাতে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
রাতের খাবার খাওয়ার অন্তত তিন ঘণ্টা পর ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন। রাতে ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন। নির্ধারিত সময়ে রাতের খাবার খাওয়া সম্ভব না হলে তুলনামূলক কম পরিমাণে খাবার খেতে পারেন। খাওয়ার পরপরই শুয়ে না পড়ে শরীরকে খাবার হজমের জন্য সময় দিন।
কফি, অ্যালকোহল, চকলেট কিংবা ঝাল ও চর্বিযুক্ত খাবার খেলে সমস্যা বাড়ে কি না, তা খেয়াল করুন। ঘুমানোর সময় বিছানার মাথার দিক কিছুটা উঁচু করে রাখা বা বিশেষ ধরনের ওয়েজ পিলো ব্যবহার করলে উপকার হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে বাঁ কাতে ঘুমানোও অ্যাসিড রিফ্লাক্স কমাতে সহায়ক।
তবে এসব অভ্যাসে সাময়িক স্বস্তি মিললেও দীর্ঘদিনের সমস্যা শুধু ঘরোয়া উপায়ে সামাল দেওয়া উচিত নয়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
নিয়মিত রাতে অ্যাসিডিটির কারণে ঘুম ভেঙে গেলে, ঘন ঘন বুক জ্বালাপোড়া হলে কিংবা ঘুমের স্বাভাবিকতা ব্যাহত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কিছু উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। যেমন—খাবার গিলতে অসুবিধা, কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী বমি এবং পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণের লক্ষণ।
এ ছাড়া নতুন করে বা তীব্র বুকব্যথা শুরু হলে, বিশেষ করে এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম কিংবা ব্যথা হাত বা চোয়ালের দিকে ছড়িয়ে পড়লে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। কারণ এসব লক্ষণ অ্যাসিডিটির পরিবর্তে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।
দেরিতে রাতের খাবার খাওয়ার পর অ্যাসিডিটি অনেকের কাছে সাময়িক অস্বস্তি মনে হতে পারে। কিন্তু নিয়মিত এমন হলে এর প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা জরুরি। খাবারের সময় ও ঘুমের অভ্যাসে পরিবর্তন উপকার করতে পারে, তবে বারবার উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোই নিরাপদ।
অন্ধ্র প্রদেশে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র আঘাত, জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা
দাম বাড়ানোর পর কোন সিলিন্ডার কত টাকায় বিক্রি
জেলহত্যা দিবস আজ
ডেমোক্র্যাটরা জিতলে ‘মিস্টার ভেটো’ হবেন ট্রাম্প!
যৌথভাবে সামরিক এআই তৈরি করবে যুক্তরাজ্য ও জার্মানি