আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে চলছে গল্পের বাস্তবতা

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৩:০০ পিএম

বহু প্রাচীন কথা ‘জীবন পুষ্পশয্যা নয়’। জীবন আসলেই সংগ্রামমুখর। জীবন সুখ-দুঃখের সাথী। বাস্তবতার কশাঘাতে তা কখনও কখনও হয়ে ওঠে দারুণ জ্বালাময়ী কিংবা কণ্টকাকীর্ণ। জীবনের পথে চলতে চলতে মানুষ যে ধরনের ঘাত-প্রতিঘাত, টানাপড়েন কিংবা আনন্দ-বিষাদের মুখোমুখি হয় বা আরেকটু গভীরে প্রবেশ করে বলা যায়, যে ধরনের মনস্তাত্ত্বিক অবক্ষয়ের সম্মুখীন হয়, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। কিন্তু শিল্পী উত্তম কুমার রায় তা বুঝতে পেরেছেন।

তার মনোলোকের গভীর দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে তিনি সেগুলো অবলোকন করেছেন। অন্তরের দৃষ্টি দিয়ে তিনি তা শনাক্ত করেছেন এবং মনের গভীরতা দিয়ে সেগুলো আবিষ্কার করেছেন। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা উন্মোচন যাই বলি না কেন তা একেকজন মানুষ একেকভাবে গ্রহণ করেন। উত্তম কুমার তা মনোস্তাত্ত্বিকভাবে চিত্রকল্পে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। তার মনোদৈহিক পর্যায়ের চিত্রকল্পগুলো তিনি এমনভাবে দৃশ্যকল্পে রূপায়িত করেছেন, যা অনেক ব্যঞ্জনাময়।

সাদা সারফেসে রঙের উদ্দাম খেলায় মেতে উঠেছে শিল্পীর মন, রং, রেখা আর টেকনিকের নানা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া। তার চিত্রকল্পে বিভিন্ন ধরনের মোটিভগুলো উঁকি দিয়ে তৈরি করেছে গল্পের অনুষঙ্গ। নানা বোধে, নানা মাধ্যমে, নানা আঙ্গিকে, নানা জটিলতায় এবং নানা ধরনের বয়ানের সরলতায় তার চিত্রকর্মগুলো সরব হয়ে ওঠেছে, যা পাঠ করা যায় এবং সে পাঠের অর্থ রয়েছে। এভাবেই তৈরি হয়েছে উত্তম কুমারের ‘গল্পের বাস্তবতা।’ 

এখানে শিল্পীর জীবনবোধ, পারিপার্শিকতার অভিজ্ঞতা অর্থাৎ বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটেছে। এভাবে অন্তর্লোকের প্রকাশ ও উপস্থাপনের শৈল্পিকতায় উত্তম কুমারের শিল্পীসত্তার পরিচয় পাওয়া যায়। বিষয়গুলো তিনি অনুসন্ধান করেছেন বিভিন্ন স্তরে। প্রথমে তিনি বিষয়গুলোর কারণ অনুসন্ধান করে সেগুলোর প্রতিক্রিয়া বুঝে নানা উপলব্ধির মাধ্যমে তা শিল্পকর্মে উপস্থাপিত করেছেন।

শিল্পী উত্তম কুমার এরই মধ্যে বেশ পরিচিতি অর্জন করেছেন। এটি তার ১২তম প্রদর্শনী। উত্তম কুমার রায় বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। প্রদর্শনীটি গত ৫ জুলাই শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ১৬ জুলাই ২০২৪ শনিবার পর্যন্ত। প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে রোববার ছাড়া সপ্তাহের সব দিনে, দুপুর ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। প্রদর্শনীটি কিউরেট করেছেন শিল্পী মোস্তফা জামান।

HK/FI
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত