দেশে ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয় এবং বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতার কারণ পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। মঙ্গলবার (৫ মে) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এই প্রস্তাব প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পিডিবির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের ফলে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিডিবির সম্ভাব্য আর্থিক ঘাটতি ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পক্ষ থেকেও ভর্তুকি কমিয়ে মূল্য সমন্বয়ের চাপ রয়েছে।
বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭.০৪ টাকা। নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হলে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। যদিও ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের (৭৫ ইউনিট পর্যন্ত) জন্য দাম না বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে, তবে সাধারণ আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে।
বিদ্যুতের এই মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনে বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি: আবাসিক গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুৎ বিল একলাফে অনেকটা বেড়ে যাবে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের বাজেটে টান ফেলবে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: কলকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বাড়বে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম আরও বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে।
সেচ ও কৃষি উৎপাদন: সেচ কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ বাড়লে ধানসহ অন্যান্য কৃষি পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়বে, যা সরাসরি খাদ্য নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলবে।
বিইআরসি জানিয়েছে, কারিগরি কমিটির যাচাই-বাছাই এবং গণশুনানি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ঈদের ছুটির কারণে আগামী এক মাসের মধ্যে কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
১২ জেলায় নতুন এসপি, চট্টগ্রামের এসপি হলেন ডিসি মাসুদ