জনসংখ্যার ছয় শতাংশ প্রতিবন্ধী: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম

সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, আন্তর্জাতিক হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধী। বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী রয়েছেন। তাদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে এবং পর্যায়ক্রমে এসব কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মিলনায়তনে রংপুর বিভাগের সমাজসেবা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সারাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসেবা পৌঁছে দিতে ৪৫টি মোবাইল থেরাপি ইউনিট মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতে সেবার পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৮৫টি নিবন্ধিত এবং ৭৫টি এমপিওভুক্ত। চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারাদেশে ১ হাজার ৭০০টি বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়েছে। সরকার প্রতিটি জেলায় একটি করে মানসম্মত প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এবং প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সমাজসেবা অধিদপ্তর, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মহিলা সংস্থা এবং প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

দুর্নীতির বিষয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী দুর্নীতিতে জড়িত প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অতীতের দুর্নীতির অভিযোগও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত করছে বলে তিনি জানান।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণকারীরাই এ সুবিধা পাবেন। এজন্য প্রথমে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে কম্পিউটারভিত্তিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। আগামী ১০ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে রংপুর নগরীসহ দেশের প্রতিটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী আরও জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব ধরনের ভাতা ও আর্থিক সহায়তা এখন সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় দেওয়া আর্থিক সুবিধাও একই পদ্ধতিতে বিতরণ করা হচ্ছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমেছে এবং সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সেলাই, কম্পিউটার, হাঁস-মুরগি পালন, প্লাম্বিং, মোবাইল ফোন মেরামতসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বিনামূল্যে সরবরাহের পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের বিনাসুদে ঋণও দেওয়া হচ্ছে।

এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব, জেলা বিএনপির সদস্য লিটন পারভেজ, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক ভরসাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Attr/AHA
আরও পড়ুন