তীব্র গ্যাস সংকট, ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি বিভ্রাটের কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে গেছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এই জটিলতায় দৈনিক সরবরাহ কমেছে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানী ঢাকার সিএনজি পাম্পগুলোতে, যেখানে চরম গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।

গ্যাস না পাওয়ায় ঢাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথচেয়ে থেকেও জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও চরম বিপাকে পড়েছেন সিএনজিচালিত যানবাহনের চালক, গণপরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং সাধারণ যাত্রীরা। পর্যাপ্ত ট্রিপ দিতে না পারায় চালকদের দৈনন্দিন উপার্জন একপ্রকার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশন ঘুরে জানা যায়, আগের দিন গভীর রাত থেকেই অনেক পাম্পের সামনে যানবাহন সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকছে।

ভুক্তভোগী এক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সকাল ৬টায় এসে দুপুর ১টা বেজে গেলেও রিফুয়েলিং সম্ভব হচ্ছে না। দিনের বেশিরভাগ সময় পাম্পেই পার হয়ে গেলে আমরা সংসার চালাব কীভাবে?

বিশেষ করে অটোরিকশা ও রাইড-শেয়ারিং পেশায় নিয়োজিত চালকরা জানান, কাঙ্ক্ষিত সময়ে গ্যাস না মেলায় সড়ক থেকে যাত্রী তোলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, ফলে তাদের দৈনিক আয় একবারে তলানিতে ঠেকেছে।

চালকদের একাংশের মনে তৈরি হয়েছে চরম ক্ষোভ ও সংশয়। তাদের আশঙ্কা, কৃত্রিম এই ভোগান্তি তৈরি করে মূলত গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে। অতীতেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে এমন অজুহাত তৈরি করা হয়েছিল বলে মনে করেন তারা।

বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নূর বলেন, লাইনে আমাদের দেওয়ার কথা ১৫ পিএসআই (পাউন্ড পার স্কয়ার ইঞ্চ) চাপের গ্যাস। সেখানে আমাদের ৩ থেকে ৫ পিএসআই পর্যন্ত দেওয়া হয়। ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় আমরা কখনো ১০ থেকে ১১ পিএসআই চাপের গ্যাস পাই। এখন গ্যাস একেবারেই জিরো বলা যায়।

তিনি বলেন, লাইনে ১৫ পিএসআই চাপের গ্যাস থাকলে আমাদের মেশিনগুলো ঘণ্টায় ৫০০ কিউবিক মিটার গ্যাস কমপ্রেস করতে পারে। আর আমরা গাড়িতে গ্যাস ডেলিভারি দিই ৩০০০ পিএসআই প্রেশারে। ইনপুটে পিএসআই যত কমবে, আউটপুটও তত কম আসবে।

ফারহান বলেন, আপনারা জেনে থাকবেন মহেশখালিতে একটা সমস্যা হয়েছে। সেটার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত লাইনে গ্যাসের চাপ বাড়বে না। আর গ্যাস না পেলে এই সংকটও কাটবে না।

এদিকে বিভিন্ন দাবি নিয়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতি আগামী ৩০ জুলাই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। সরকারের সঙ্গে তাদের এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে ফারহান নূর বলছেন, অনেকে ভাবছেন আমাদের কর্মসূচির কারণে গ্যাস নেই। সেটা কিন্তু ঠিক না। আমাদের ধর্মঘট কর্মসূচির তারিখ ৩০ জুলাই। এর মধ্যে সরকার দাবি না মানলে আমরা সেই কর্মসূচি পালন করব। এখন কিন্তু লাইনে গ্যাস না থাকায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সেটা কেটে গেলেই সব স্বাভাবিক হবে।

YA
আরও পড়ুন