প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন। সফরে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি। এ ছাড়া বাগেরহাটে হজরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত এবং খুলনা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’-এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, আজ সকাল ৯টায় হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে মোংলার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দুটি কর্মসূচি শেষে সড়কপথে বাগেরহাট জেলা সদরে গিয়ে মাজার জিয়ারত করবেন তিনি। এরপর খুলনায় গিয়ে স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর উদ্বোধন করবেন। সারা দেশে তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এ আয়োজন করেছে।
মোংলা বন্দরের ‘সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হবে ৩৬৮ মিটার সম্মিলিত দৈর্ঘ্যের ১০ ও ১১ নম্বর দুটি আধুনিক কনটেইনার জেটি। এ ছাড়া থাকবে আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামো। এসব স্থাপনা চালু হলে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার টিইইউ (টোয়েন্টি-ফুট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট) কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের আওতায় ৮৭ হাজার ৬০০ বর্গমিটারের লোডেড কনটেইনার ইয়ার্ড, ৩৪ হাজার ১৭০ বর্গমিটারের খালি কনটেইনার ইয়ার্ড এবং ৪ হাজার ২৬০ বর্গমিটারের বিপজ্জনক পণ্য হ্যান্ডলিং ইয়ার্ডও নির্মাণ করা হবে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ (এমপিএ) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে এতে চীন সরকার এক্সিম ব্যাংক অব চায়নার মাধ্যমে প্রায় ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহজ শর্তের ঋণ দিচ্ছে। প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি)।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের পণ্য ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এর ফলে সামুদ্রিক বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় গতি আসবে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বন্দরটি।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধি, সিআরসিসি ও সিসিইসিসির প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
ট্রাম্পের ‘জিহাদি’ আখ্যাই এল-সাইয়েদের জয়ে ভূমিকা রেখেছে: রিপাবলিকান নেতা
সিনেটে চাক শুমারের বিকল্প নেতৃত্ব চান ফ্লানাগান