এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে ইইউ ও জি-৭৭

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম

বাংলাদেশকে টেকসইভাবে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণে পাশে থাকার প্রত্যয় জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং জি-৭৭ অ্যান্ড চায়না।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সহযোগিতার কথা জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে পৃথক দুটি বৈঠকে বসেন ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস এবং জি-৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ার তথা জাতিসংঘে উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরে। সেখানে উভয় পক্ষই বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের যাত্রাকে মসৃণ ও স্থায়ী করতে পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।

উক্ত বৈঠকগুলোতে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, এলএফএমইএবি-এর সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বিজিএমইএ-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশের পক্ষে যৌক্তিক কারণগুলো তুলে ধরেন।

তিনি জানান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তর, বৈশ্বিক মন্দা, জ্বালানি সংকট এবং চলমান কাঠামোগত সংস্কার প্রক্রিয়াকে সফল করতে এই অতিরিক্ত সময়টুকু অত্যন্ত জরুরি। সেই সাথে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাতের উন্নয়ন, অবকাঠামো মজবুতকরণ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বর্তমান সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই অতিরিক্ত সময় পেলে দেশের শিল্প খাত আরও প্রতিযোগিতাসক্ষম হবে এবং এলডিসি উত্তরণ হবে স্থায়ী ও কার্যকর।

বাংলাদেশের এই উদ্যোগ ও সুশাসনের অঙ্গীকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ইইউ রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস। বাংলাদেশ ও ইইউ-এর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সংক্রান্ত আলোচনাকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি তিনি এলডিসি উত্তরণে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত অংশীদারিত্বের ওপর জোর দেন।

অন্যদিকে, জি-৭৭-এর চেয়ার রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরে বাংলাদেশের সময় বৃদ্ধির দাবিকে অত্যন্ত যৌক্তিক ও শক্তিশালী বলে আখ্যা দেন। সরকারের বাস্তবমুখী সংস্কার কাজের প্রশংসা করে তিনি জি-৭৭ ভুক্ত দেশগুলোর জন্য বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ কৌশল নিয়ে একটি বিশেষ ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তাব দেন, যা বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সানন্দে গ্রহণ করে।

বৈঠক শেষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব বৈঠকটিকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশকে একটি টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণের পথ তৈরিতে ইইউ তাদের সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

Attr/YA
আরও পড়ুন