ইতিহাসের সাক্ষী নওগাঁর জগদ্দল বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৩ এএম

প্রাচীন বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে যে ধর্মশিক্ষা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছিল তা কালের আবর্তে প্রায় সবগুলোই লয়প্রাপ্ত। সেই বৈদিকশিক্ষা থেকে শুরু করে পাল শাসনামলেই পূর্ণমাত্রায় যা বিকশিত হয়। পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করলেও পরবর্তীতে নানামুখী বিজ্ঞান ভিত্তিক জীবনমুখী আধুনিক শিক্ষার রূপ পায়। পশ্চিমা বিশ্ব তথা উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের জন্য ছিল অনুকরণীয়।

এ পর্যায়ে অবিভক্ত বাংলায় তথা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে প্রাচীন কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও এগুলোর পরিচয়-শিক্ষা-কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত পরিসরে উপস্থাপন করা হলো।

প্রাচীন বাংলার একাদশ-দ্বাদশ শতকের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ বিহার ও প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়, যা বর্তমানে বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলায় অবস্থিত। অবিভক্ত বাংলায় পাল সম্রাট রামপাল গঙ্গা/পদ্মার তীরে একটি নগরী গড়ে তোলেন। তাঁর রাজত্বকালে ১১ শতকের প্রারম্ভেই এর নামকরণ করেন রাঙাবতি এবং একই সাথে বৃহৎ সন্ন্যাসী মঠ/আশ্রম নির্মাণ করেন। নামকরণ করেন জগদ্দল যা পরবর্তী কালে শিক্ষা বিস্তারের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে জগদ্দল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।

জগদ্দল মহাবিহার

তিব্বতীয় সূত্রানুসারে পাঁচটি সুপ্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ রয়েছে জগদ্দল সেগুলোর অন্যতম। অন্যগুলো হলো- নালন্দা, ওদন্তপুরী, বিক্রমশীলা এবং সোমপুর বিশ্ববিদ্যালয়। সংস্কৃত প্রাচীন শ্লোকের প্রাচীনতম সংকলন গুলোর মধ্যে একটি 'সুভাষিত রত্নকোষ' যা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বৌদ্ধ পণ্ডিত এবং কাব্য সংকলক দিবাকর দ্বারা সংকলিত হয়েছে বলে মনে করা হয়। জগদ্দল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতসহ বিস্তৃত বিষয়ে পাঠদান করা হতো। বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্রভূমির অহংকার হিসেবে পবিত্র তিব্বতি গ্রন্থ রচিত ও অনুদিত হয়েছিল এখানেই। অসংখ্য খ্যাতিমান পণ্ডিত, গবেষক এবং বিদ্যার্থীদের জ্ঞান বিস্তারে জগদ্দল বিশ্ববিদ্যালয় অনেক সুনাম কুড়িয়েছিল।

YA
আরও পড়ুন