বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘গত ১৫ বছর আপনারা ভোট দিতে পারেননি। আগে যেমন নিশিরাতে ভোট হয়েছে, এখন আবার নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আপনারা দেখেছেন—একটি দল কীভাবে প্রবাসীদের ব্যালট পেপার দখলে নিয়েছিল। জনগণের সজাগ উপস্থিতিই এসব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে হবে। ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্য তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে এবং ফজরের নামাজ ভোটকেন্দ্রের কাছেই আদায় করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মনোনীত প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ড. মুশফিকুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে গণসংহতির মনোনীত প্রার্থী জুনায়েদ সাকি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের প্রার্থী আব্দুল হান্নানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: সিরাজুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তারেক রহমান আরো বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে শুধু জনগণের ভোটের অধিকারই নয়, কথা বলার অধিকারও কেড়ে নেয়া হয়েছিল। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে দেড় হাজারের বেশি মানুষ রক্ত দিয়েছে এবং ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। ১৯৭১ সালে রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, আবার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়ে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘অথচ গত ১৫ বছরে সংখ্যালঘুদের ওপর অনেক অবিচার করা হয়েছে, যার কোনো বিচার হয়নি। আজ স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
জনসভায় তারেক রহমান দুটি কার্ড প্রদর্শন করে বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের আগে দক্ষ জনশক্তি তৈরির মতো বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের স্লোগান— ‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’।
এ সময় তারেক রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপি ও জোটের শরিক দল মনোনীত এমপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, তাদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য। তিনি বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে এই ছয়জনের মাধ্যমেই এলাকায় সার্বিক উন্নয়ন হবে, ইনশাল্লাহ।
দুপুর থেকেই সমাবেশস্থলে মানুষের উপস্থিতি শুরু হয়। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, সরাইল, আশুগঞ্জ, নাসিরনগর, কসবা, আখাউড়া, নবীনগর ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেন।
সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের সমাবেশ শেষ করে রাত ১০টার তারেক রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সমাবেশস্থলে পৌঁছালে মাঠজুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং একপর্যায়ে মঞ্চ থেকে নেমে এসে জনতার সাথে হাত মেলান।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন পর জনসভায় তারেক রহমানের উপস্থিতিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহের সঞ্চার হয়। যদিও তিনি এর আগে এই মাঠে বক্তব্য দেননি, তবে তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখানে একাধিকবার জনসভায় বক্তৃতা করেছেন।
কেরানীগঞ্জে প্রকাশ্যে বিএনপি নেতাকে গুলি
