ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির ভেন্যুতে ইসলামীক অনুষ্ঠানের ঘোষণা

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিক সমন্বয় সভার জন্য নির্ধারিত জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৩টায় সেখানে কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত ও ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর এক ঘণ্টা পর বিকেল ৪টায় একই স্থানে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা হওয়ার কথা ছিল।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সফর ও কর্মসূচির খবর প্রকাশের পর শুক্রবার রাত থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জেলার পরিস্থিতি। সংসদে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে রাতে কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ জানান, দলের পূর্বঘোষিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা শনিবার বিকেল ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে হওয়ার কথা ছিল। সভায় কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের নেতৃত্বে দলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা আব্দুল খালেক বলেন, শুক্রবার রাতে তাঁরা এনসিপির বিরুদ্ধে মিছিল ও গণসমাবেশ করেছেন। তাঁদের তিনটি দাবি ছিল সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য হাসনাত আবদুল্লাহকে লাইভে এসে ক্ষমা চাইতে হবে, পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে ক্ষমা চাইতে হবে এবং জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিও জানান তাঁরা।

দাবিগুলো মেনে না নেওয়ায় শনিবার বিকেল ৩টায় শিল্পকলা একাডেমিতে কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত ও ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান আব্দুল খালেক। এ কর্মসূচি সফল করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইসলামপ্রিয় মানুষদের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।

তবে জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ জানিয়েছেন, শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির অনুষ্ঠানের আবেদন থাকলেও অনুষ্ঠান ও রাজনৈতিক কর্মসূচি এক বিষয় নয়। এ কারণে এনসিপির জন্য নির্ধারিত ভেন্যু বাতিল করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদও শিল্পকলা একাডেমিতে কোনো অনুষ্ঠানের জন্য আবেদন করেনি। তাই শনিবার সেখানে কোনো অনুষ্ঠান হবে না। পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় তিনি সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করেন। তাঁর ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিবাদ ও পাল্টা কর্মসূচির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এএম
আরও পড়ুন