ভিপি সাদিক কায়েমের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মাদানী

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। বিশেষ করে নারীদের খেলাধুলা, পোশাক এবং এসব কার্যক্রম প্রকাশ্যে উপস্থাপনের বিষয়ে তিনি আপত্তি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আলেমদের সুস্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী।

স্ট্যাটাসে তিনি জানান, ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েম বিজয়ী হওয়ার পর তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, তিনি ওই বিজয়কে ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী শক্তির বিজয় হিসেবে দেখেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের আন্দোলন-সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

সাদিক কায়েম ও এসএম ফরহাদের নেতৃত্বে ডাকসুর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসাও করেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। তাঁর মতে, সিট বাণিজ্য বন্ধ, যোগ্যতার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ, বৃষ্টির দিনে ছাত্রীদের জন্য ভ্যানের ব্যবস্থা, আলাদা বাস এবং গরমের সময় সুপেয় পানির ব্যবস্থা প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

তবে এসব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, মুসলিম হিসেবে শুধু সুযোগ-সুবিধা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে কাউকে সমর্থন করা যায় কি না, নাকি ধর্মীয় বিধানও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়টি ইসলামি প্রতিষ্ঠান নয় এবং সব ছাত্রী পর্দা করেন না—এ বিষয়টি উল্লেখ করে নারীদের খেলাধুলা নিয়ে আপত্তির কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে তাঁর আপত্তি খেলাধুলার পরিবর্তে খেলোয়াড়দের পোশাক এবং সেটিকে প্রকাশ্যে উৎসাহ দেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে বলে জানান।

রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, সাদিক কায়েমকে অনেক তরুণী অনুসরণ করেন এবং নেতা হিসেবে বিবেচনা করেন। বিভিন্ন আলেমের সঙ্গে সাদিক কায়েমের প্রকাশ্য যোগাযোগ ও জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ বিভিন্ন আলেমের সমর্থনের কারণে তাঁর কর্মকাণ্ড অনুসারীদের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ কারণে শায়েখ আহমদুল্লাহ, শায়েখ মিজানুর রহমান আজহারী, শায়েখ মামুনুল হক, আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহসহ যেসব আলেমের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন, তাদের এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, তাঁর কাছে উন্নয়নের পাশাপাশি আদর্শ ও ধর্মীয় বিধান গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোকে গৌণ করা হলে সেই ক্ষমতা ইসলামের পক্ষে কার্যকর হবে না—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

এমইউ
আরও পড়ুন