যে দুইটি আমলে অসম্ভবও সম্ভব হয় 

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩০ এএম

জীবনে অসম্ভব কিছু চাইছেন; কিন্তু চাওয়াটা বৈধ। রয়েছে অসম্ভব জিনিস পাওয়ার সহজ দুইটি আমল। এই দুই আমলে দুনিয়ার জীবনেই একদম সুস্পষ্ট ফলাফল দেখতে পাবেন। ইনশাআল্লাহ।

যদি কেউ নিজেদের জীবনের ফরজিয়তগুলো আদায় করে দুইটি আমলে নিজেদের নিয়োজিত করে তবে তারা দুনিয়াতেই নিজ চোখে দেখতে পারবেন কারামত। এমন কার্যকরী আমল দুইটি কী?

যারা মুজেজা-কারামতকে প্রাগৈতিহাসিক মনে করেন, এই দুইটা আমল নিয়মিত করে দেখেন। নিজেদের চোখের সামনেই একদম সুস্পষ্ট কারামত দেখতে পাবেন ইনশাআল্লাহ। আমল দুইটি হলো—

১. দরুদ পড়া। (দরুদে ইবরাহিম বা সংক্ষিপ্ত দরুদ)

২. ইসতেগফার পড়া। (আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি)

এই দুটি আমল- সাধারণ কোনো আমল নয়; বরং অনেক উঁচু মর্যাদার আমল। যে আমল দুনিয়া নিরাপত্তা দেবে। অসম্ভব চাওয়া-পাওয়াও পূরণ হবে। রহমত ও বরকতে জীবন ভরপুর হবে। পরকাল হবে নিরাপদ।

১. অর্থ ও উচ্চারণসহ দরুদে ইবরাহিম—

اَللّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدُ، اَللّهُمَّ بَارِكْ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউঅআলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা স্বাল্লাইতা আলা ইবরা-হীমা অ আলা আ-লি ইবরা-হিম, ইন্নাকাহামিদুম মাজিদ। আল্লা-হুম্মা বা-রিক আলা মুহাম্মাদিঁউঅ আলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা বা-রাকতা আলা ইবরা-হিমা অ আলা আ-লি ইবরা-হিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মদ ও তার বংশধরের উপর রহমত বর্ষণ কর, যেমন তুমি হজরত ইব্রাহিম ও তাঁর বংশধরের উপর রহমত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত গৌরবান্বিত। হে আল্লাহ! তুমি হজরত মুহাম্মদ ও তার বংশধরের উপর বর্কত বর্ষণ কর, যেমন তুমি হজরত ইব্রাহিম ও তার বংশধরের উপর বর্কত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত গৌরবান্বিত। (সুনানে নাসায়ি: ১২৯১)

২. ইসতেগফার পড়া: নিচে চার ধরনের ইসতেগফার তুলে ধরা হলো—

> أَسْتَغْفِرُالله 

উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’

অর্থ: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’


> أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ

উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।’

অর্থ: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও তাঁর দিকে ফিরে আসছি।’

> رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ (أنْتَ) التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ

উচ্চারণ: ‘রব্বিগফিরলী ওয়াতুব ‘আলাইয়া ইন্নাকা আনতাত্ তাওয়াবুর রহিম।’ 

অর্থ: ‘হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন। আমার তাওবা গ্রহণ করুন। নিশ্চয় আপনি তাওবা গ্রহণকারী, অতি দয়ালু।’ (আবু দাউদ : ১৫১৬)

>  اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্কতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহ্দিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউলাকা বিজাম্বি ফাগ্ফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক, তুমি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছো আর আমি তোমার বান্দা। আমি আমার সাধ্যানুযায়ী তোমার সঙ্গে যে ওয়াদা করেছি তা পূরণ করার চেষ্টায় রত আছি, আমি আমার কর্মের অনিষ্ট থেকে পানাহ্ চাই, আমি স্বীকার করছি আমার প্রতি তোমার প্রদত্ত নিয়ামতের কথা এবং আমি আরো স্বীকার করছি আমার পাপে আমি অপরাধী, অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করো, তুমি ছাড়া ক্ষমা করার আর কেউ নাই।’

HN
আরও পড়ুন