গর্ভবতী মায়ের রোজা রাখার হুকুম কী?

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২১ এএম

রমজান মাসের রোজা প্রাপ্ত বয়স্ক, স্বাধীন ও সুস্থ মস্তিষ্কের সব নারী-পুরুষের জন্য ফরজ বিধান। এ ফরজ বিধান পালনের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা এসেছে কুরআনে। তারপরও রোজা রাখা সম্পর্কে অনেকের অজানা অনেক বিষয় থাকে। তারমধ্যে একটি— গর্ভাবস্থায় মায়েরা রোজা পালন করতে পারবে কি? তাদের রোজা রাখার বিধান কী? কেননা ডাক্তাররাও অনেক সময় তাদের রোজা রাখতে নিষেধ করেন।

হ্যাঁ, গর্ভবতী নারীর যদি রোজা রাখলে গর্ভস্থ বাচ্চার ক্ষতির আশংকা হয়, বা গর্ভবতী নারী মারাত্মক অসুস্থ্য হয়ে যাওয়ার আশংকা হয়, এ কারণে ডাক্তারও রোজা রাখতে নিষেধ করে, তাহলে রোজা রাখবে না। বরং রোজা ভাঙ্গা তার জন্য জায়েজ। তবে পরবর্তীতে এর কাজা আদায় করে নিতে হবে। (ফাতওয়ায়ে রহিমীয়া-৭/২৭০)

তবে ডাক্তারের নিষেধ সত্বেও যদি কোনো গর্ভবতী রোজা রাখে, তাহলে তার রোজা আদায় হয়ে যাবে। তবে গর্ভস্থ বাচ্চার মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশংকা থাকলে এমতাবস্থায় রোযা উচিত নয়।

কুরআনের সুস্পষ্ট দলিল হচ্ছে—

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ ۚ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖ وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

‘রমজান মাসই হলো সেই মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোজা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তাআলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৫)

ফাতাওয়া আত-তাতারখানিয়্যা গ্রন্থে বলা হয়েছে—

فى الفتاوى التاتارخانية- اذا خافت الحامل أو المرضع على أنفسهما أو على ولدهما جاز له الفطر، وعليهما القضاء، (الفتاوى التاتارخانية – كتاب الصوم، فصل الأسباب المبيحة للفطر-3/404)

‘যদি কোনো গর্ভবতী নারী বা দুধপান করানো মা নিজের জীবন বা স্বাস্থ্যের ক্ষতির আশঙ্কা করে, অথবা তার সন্তানের ক্ষতির ভয় থাকে, তবে তার জন্য রোজা না রাখা বৈধ। তবে পরবর্তীতে সেই রোজাগুলোর কাজা আদায় করতে হবে।’ (ফাতাওয়া আত-তাতারখানিয়্যা: কিতাবুস সাওম, রোজা ভঙ্গের বৈধ কারণসমূহ, ৩/৪০৪)

HN
আরও পড়ুন