স্বর্ণের দামে অস্থিরতা, জাকাত দেবেন যেভাবে

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:২২ এএম

মুসলমানদের ওপর সামর্থ্য অনুযায়ী জাকাত দেওয়া ফরজ। জাকাতের মূল হিসাব স্বর্ণ ও রূপার মূল্যকে কেন্দ্র করে নির্ধারণ করা হয়। কোনো মুসলমানের কাছে এক চন্দ্রবছরে (হাওল) সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা— অথবা এগুলোর সমমূল্যের নগদ অর্থ বা ব্যবসায়িক সম্পদ—থাকলে তার ওপর জাকাত ফরজ।

বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী জাকাত

বর্তমানে স্বর্ণের দাম ক্রমাগত ওঠানামা করছে। এমন পরিস্থিতিতে জাকাত কিভাবে নির্ধারণ করবেন—বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী নাকি অন্য কোনো বিকল্প রয়েছে- এ প্রশ্ন আসে। ইসলামিক স্কলারদের মতে, জাকাতের হিসাব চন্দ্রবছর (হাওল) পূর্ণ হওয়ার দিনের বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ীই নির্ধারণ করতে হবে।

উদাহরণ স্বরূপ- কারো কাছে ফেব্রুয়ারির ২২ তারিখে গচ্ছিত স্বর্ণ, রূপা বা তার সমমূল্যের অর্থ এক চন্দ্রবছর পূর্ণ করল—তাহলে ওই দিন স্বর্ণ বা রূপার বাজারমূল্য অনুযায়ী জাকাত হিসাব করা হবে। ক্রয়মূল্য বা পূর্বের বিনিয়োগের মূল্য কোনো প্রভাব ফেলবে না।

ব্যবসায়িক সম্পদের জাকাত

ব্যবসায়িক পণ্যের ক্ষেত্রে জাকাত নির্ধারণের সময় বর্তমান বাজারমূল্যই বিবেচ্য, ক্রয়মূল্য নয়। অধিকাংশ ফিকহবিদ এই মত দিয়েছেন। অর্থাৎ ব্যবসায়িক পণ্য থাকলেও হাওল পূর্ণ হওয়ার দিনে তার বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী ২.৫% জাকাত দিতে হবে।

নগদ অর্থ না থাকলে করণীয়

যদি কারো হাতে নগদ অর্থ সরাসরি না থাকে, তবে তার কাছে থাকা স্বর্ণ, রূপা ও ব্যবসায়িক পণ্য একত্রে যোগ করে যদি নিসাব পরিমাণে পৌঁছায়, তখন জাকাত ফরজ হবে।

শুধু নিসাব পরিমাণ স্বর্ণ থাকলে এবং নগদ অর্থ না থাকলে জাকাত প্রদান অবিলম্বে বাধ্যতামূলক নয়। তবে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব বা গাফিলতি শারিয়াহসম্মত নয়। চাইলে স্বর্ণের কিছু অংশ বিক্রি করে বা পরবর্তীতে নগদ প্রাপ্ত হলে জাকাত প্রদান করা যেতে পারে।

মূলনীতি

জাকাত আদায়ে মূল বিষয়গুলো হলো—

সম্পদ নিসাব পরিমাণে পৌঁছানো।
এক চন্দ্রবছর (হাওল) পূর্ণ হওয়া।
হাওল পূর্ণ হওয়ার দিনের বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী সঠিক হিসাব করে সময়মতো জাকাত প্রদান।
এ নিয়মগুলো অনুসরণ করলে স্বর্ণ বা রূপার দাম ওঠা-নামার সময়ও জাকাত সঠিকভাবে প্রদান করা সম্ভব।

HN
আরও পড়ুন