হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ তথা পবিত্র আশুরা ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শোকাবহ একটি দিন। আরবি ‘আশারা’ শব্দ থেকে আশুরা শব্দটির উৎপত্তি, যার অর্থ হচ্ছে দশ। আজ সেই পবিত্র ১০ই মহররম। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন জাগে- আশুরার দিনে কি পশু জবাই করা জায়েজ?
ইসলামি আইনবিদ ও ফুকাহায়ে কেরামদের মতে, আশুরার দিনে যেকোনো হালাল পশু যেমন- গরু, মহিষ, ছাগল, হাঁস কিংবা মুরগি জবাই করা পুরোপুরি বৈধ বা জায়েজ। তবে এ ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্ত রয়েছে। এই দিনে পশু জবাই করাকে যদি আশুরার কোনো বিশেষ পুণ্যময় আমল, আবশ্যকীয় নিয়ম বা ধর্মীয় ইবাদত মনে করা হয়, তবে তা মোটেও শরিয়তসম্মত হবে না। সাধারণ দিনগুলোর মতোই স্বাভাবিক প্রয়োজনে এই দিনেও পশু জবাই ও গোশত খাওয়া যাবে, কিন্তু একে আশুরার বিশেষ প্রথা বানানো যাবে না।
প্রকৃতপক্ষে, পবিত্র আশুরার মূল এবং অন্যতম প্রধান আমল হলো রোজা রাখা। হাদিস শরিফে এসেছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে আশুরার দিনে রোজা পালন করেছেন এবং তাঁর উম্মতদেরও এই রোজা রাখার জোরালো নির্দেশ দিয়েছেন।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে, নবীজি (সা.) যখন আশুরার দিনে রোজা রাখেন এবং অন্যদেরও নির্দেশ দেন, তখন সাহাবিরা জানতে চান, ‘হে আল্লাহর রাসুল, ইহুদিরাও তো এই দিনটিকে বড় দিন মনে করে রোজা রাখে। আমরা রোজা রাখলে তো তাদের সঙ্গে সাদৃশ্য হয়ে যায়।’ জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তারা যেহেতু একটি রোজা রাখে, বেঁচে থাকলে আগামী বছর আমরা ১০ তারিখের সঙ্গে ৯ তারিখ মিলিয়ে দুই দিন রোজা পালন করব, ইনশাআল্লাহ’ (সহিহ মুসলিম)। অন্য এক হাদিসে নবীজি (সা.) স্পষ্ট করেছেন যে, ইহুদিদের সঙ্গে যেন মুসলমানদের আমলের মিল না হয়, সেজন্য ১০ মহররমের আগের দিন (৯ তারিখ) অথবা পরের দিন (১১ তারিখ) মিলিয়ে মোট দুটি রোজা রাখা উচিত।
তাই ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, আশুরার আসল সুন্নত ও পুণ্যময় আমল হলো ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম- এই নিয়মে দুই দিন রোজা রাখা। এর বাইরে এই দিনে পশু জবাই করাকে আলাদা কোনো ধর্মীয় সওয়াবের কাজ বা বিশেষ আচার মনে করার কোনো ভিত্তি ইসলামে নেই।
যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র আশুরা পলিত হচ্ছে আজ