ঢাকা
সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
ই-পেপার

যে আমলে দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর হয়

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৩০ পিএম

মানুষের জীবনের দুটি প্রধান সংকট হলো দারিদ্র্য ও গুনাহ। ইসলামে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে যা এই দুটি সমস্যা দূর করে মুমিনদের জীবনে বরকত ও পরিশুদ্ধি এনে দেয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো ওমরাহ। কুরআন ও সুন্নাহতে এই ইবাদতকে দারিদ্র্য দূর করা এবং গুনাহ মাফের এক শ্রেষ্ঠ উপায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাদিসে ওমরাহর বিশেষ গুরুত্ব

ওমরাহকে দারিদ্র্য ও গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার কার্যকর পথ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মহানবী (সা.)।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ধারাবাহিকভাবে হজ ও ওমরা করে যেতে থাকো। কারণ এ দুটি দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে যেমন হাঁপর (ভাঁড়ার আগুন) লোহা, সোনা ও রুপার ময়লা দূর করে। আর মাবরুর হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়।’ (নাসাঈ ২৬৩১, তিরমিজি ৮১০)

এছাড়াও, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘এক ওমরাহর পর অন্য ওমরাহ উভয়ের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের জন্য কাফফারাস্বরূপ। আর কবুল হজের প্রতিদান হলো জান্নাত।’ (বুখারি ১৭৭৩)

রমজানে ওমরাহ হজের সমতুল্য

বছরের নির্দিষ্ট পাঁচটি দিন (জিলহজ মাসের ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ তারিখ) ছাড়া সারা বছরই ওমরাহ পালন করা জায়েজ। তবে রমজান মাসে ওমরাহ করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের ওমরাহ একটি হজের সমতুল্য অথবা আমার সঙ্গে হজ করার সমতুল্য।’ (বুখারি ১৭৮২)

মক্কায় পৌঁছার সামর্থ্য থাকলে জীবনে একবার ওমরাহ করা সুন্নতে মুআক্কাদা এবং অধিক ওমরাহ করা মুস্তাহাব।

যেভাবে ওমরাহ দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে

ওমরাহ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি জীবনের দুটি বড় সংকট থেকে মুক্তি দেওয়ার কারণ।

১. হৃদয়কে গুনাহ থেকে শুদ্ধ করে: ওমরাহ বান্দাকে তওবার দিকে ফিরিয়ে আনে, যা গুনাহ ধুয়ে দেয় এবং আত্মাকে পবিত্র করে। ২. আল্লাহর ওপর ভরসা বৃদ্ধি: আল্লাহর পথে (ওমরাহ পালনে) সম্পদ ব্যয় করার কারণে আল্লাহ মুমিনের রিজিকে (রিজিক) বরকত দান করেন। ৩. আর্থিক সংকট দূর করার দ্বার: ওমরাহ দারিদ্র্যকে এমনভাবে দূর করে, যেমন আগুনের হাঁপরে ধাতুসমূহের ময়লা দূর হয় অর্থাৎ আর্থিক কষ্ট ও গুনাহ উভয়ই ঝরে যায়।

হজ ও ওমরাহ জীবনের সব দুশ্চিন্তা, দারিদ্রতা ও গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার এক মহৌষধ। আন্তরিকতার সাথে এই ইবাদত পালনের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার রিজিক প্রশস্ত করেন, গুনাহ ক্ষমা করেন এবং জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।

NB/LH
আরও পড়ুন