বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ছন্দে দিনকে দিন দ্রুতই বদলে যাচ্ছে মানুষের যাপিত জীবনের গল্প। বিজ্ঞানের আবিষ্কার ও প্রযুক্তির ব্যবহারে জীবনযাত্রার মান যেমন উন্নত হচ্ছে, তেমনি সহজ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ঘরোয়া নিরাপত্তার জন্য আগে আপনাকে অনেক ভাবতে হলেও, এখন সেসব কেবল আপনার ইচ্ছের ওপর নির্ভর করে।
আপনার ঘরোয়া নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরার কাজ করবে ঘরে পড়ে থাকা অপ্রয়োজনীয় পুরোনো স্মার্টফোনটি! অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটি কিন্তু সম্ভব। আর কীভাবে তা সম্ভব, ‘খবর সংযোগ’-এর পাঠকদের জন্য তা-ই তুলে ধরা হলো এই প্রতিবেদনে।
যেভাবে পুরোনো স্মার্টফোনকে সিসি ক্যামেরায় রুপান্তর করবেন-
ডিভাইস প্রস্তুত করুন
প্রথমেই আপনার দুটি স্মার্টফোন প্রয়োজন হবে। ঘরে পড়ে থাকা পুরোনো ফোনটি ক্যামেরা হিসেবে নির্দিষ্ট স্থানে বসানো হবে এবং আপনার বর্তমান সিসিটিভি স্ক্রিন বা ‘ভিউয়ার ডিভাইস’ হিসেবে কাজ করবে, যার মাধ্যমে আপনি সরাসরি লাইভ ভিডিও দেখতে পাবেন। মনে রাখবেন, দুটি ডিভাইসেই সচল ইন্টারনেট সংযোগ থাকা বাধ্যতামূলক।
নিরাপত্তা ক্যামেরা অ্যাপ ডাউনলোড করুন
এবার দুটি ফোনেই একটি সিকিউরিটি ক্যামেরা অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে। অ্যান্ড্রয়েড (Android) ও আইওএস (iOS)-উভয় প্ল্যাটফর্মের জন্যই প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোরে এমন অসংখ্য অ্যাপ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। এসব অ্যাপে সাধারণত লাইভ স্ট্রিমিং, মোশন ডিটেকশন (নড়াচড়া শনাক্তকরণ), রিমোট ভিউ, লোকাল রেকর্ডিং এবং টু-ওয়ে অডিওর (উভয়মুখী কথা বলা) মতো আধুনিক সব সুবিধা থাকে।
একই অ্যাকাউন্টে লগইন করুন
অ্যাপ ইনস্টল করার পর দুটি ডিভাইসেই একই অ্যাকাউন্ট (যেমন- জিমেইল বা অ্যাপ অ্যাকাউন্ট) দিয়ে লগইন করতে হবে। নিরাপত্তা এবং ডিভাইস দুটির মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য অধিকাংশ অ্যাপেই এই ধাপটি সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
ক্যামেরা ও ভিউয়ার ডিভাইস যুক্ত করুন
অ্যাপের নির্দেশনা অনুযায়ী দুটি ফোনকে একে অপরের সাথে ‘পেয়ার’ বা যুক্ত করতে হবে। সেটআপের সময় পুরোনো ফোনটিকে ‘ক্যামেরা’ এবং নতুন ফোনটিকে ‘ভিউয়ার’ হিসেবে সিলেক্ট করুন। কিছু কিছু অ্যাপে কিউআর (QR) কোড স্ক্যান বা অটোমেটিক সিঙ্কের (Sync) মাধ্যমে এই সংযোগটি পলকেই সম্পন্ন হয়ে যায়।
উপযুক্ত স্থানে ক্যামেরা স্থাপন করুন
পুরোনো ফোনটি ঘরের এমন জায়গায় স্থাপন করুন যেখানে আপনার সবচেয়ে বেশি নজরদারি প্রয়োজন; যেমন— প্রধান প্রবেশদ্বার, করিডর, সিঁড়ি কিংবা বসার ঘর। ফোনটি কিছুটা উঁচুতে এবং স্থির কোনো স্ট্যান্ডে রাখলে পুরো এলাকা ভালোভাবে নজরে আসে এবং ডিভাইসটি পড়ে গিয়ে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও কমে।
ক্যামেরা ফোন সবসময় চার্জে রাখুন
যেহেতু ফোনটি একটানা সিসি ক্যামেরা হিসেবে কাজ করবে, তাই দীর্ঘ সময় সচল রাখতে ক্যামেরা ফোনটিকে সবসময় চার্জে যুক্ত রাখা জরুরি। ঘরের সেই নির্দিষ্ট স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকলে একটি ভালো মানের পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করতে পারেন, যাতে আপনার নজরদারি প্রক্রিয়াটি নিরবচ্ছিন্ন থাকে।
শক্তিশালী ইন্টারনেট নিশ্চিত করুন
লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিং এবং যেকোনো সতর্কবার্তা তাৎক্ষণিকভাবে ফোনে পাওয়ার জন্য একটি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী ওয়াইফাই (Wi-Fi) সংযোগ প্রয়োজন। ইন্টারনেট দুর্বল হলে ভিডিও ল্যাগ বা আটকে যেতে পারে, বাফারিং হতে পারে কিংবা জরুরি নোটিফিকেশন আসতে দেরি হতে পারে।
লাইভ ফিড পরীক্ষা করুন
সব সেটআপ শেষ করার পর আপনার হাতের ভিউয়ার ফোনটি থেকে লাইভ ভিডিও ঠিকঠাক দেখা যাচ্ছে কি না, তা একবার পরীক্ষা করে নিন। কাঙ্ক্ষিত কোণ বা পুরো এলাকাটি ভালোভাবে স্ক্রিনে আসছে কি না এবং মোশন ডিটেকশন ফিচারটি ঠিকঠাক কাজ করছে কি না- তা আগেই যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
মোশন ডিটেকশন ও অ্যালার্ট কাস্টমাইজ করুন
নিরাপত্তা অ্যাপগুলোর সেটিংসে গিয়ে মোশন সেনসিটিভিটি ও রেকর্ডিং অপশনগুলো নিজের মতো করে কাস্টমাইজ বা বিন্যাস করে নিন। সঠিকভাবে সেটিংস ঠিক করে রাখলে ঘরের হালকা বাতাসের কারণে অপ্রয়োজনীয় অ্যালার্ট আসা বন্ধ হবে এবং কেবল গুরুত্বপূর্ণ কোনো নড়াচড়া হলেই আপনার ফোনে সতর্কবার্তা চলে আসবে।
একাধিক ফোন ব্যবহার করে কভারেজ বাড়ান
আপনার ঘরে যদি একের বেশি অপ্রয়োজনীয় পুরোনো ফোন থাকে, তবে সেগুলোর সব কটিকেই আলাদা আলাদা ক্যামেরা হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন। সবগুলো ডিভাইসকে একই অ্যাকাউন্ট ও ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত করে ঘরের বিভিন্ন অংশে স্থাপন করলে- একই সাথে একাধিক রুম এবং প্রবেশপথ মনিটর করা সম্ভব।
এই সাধারণ ও সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করে আপনিও আপনার ঘরের ফেলে রাখা পুরোনো স্মার্টফোনটিকে একটি কার্যকরী ও শক্তিশালী নিরাপত্তা ক্যামেরায় রূপান্তর করতে পারেন। এটি যেমন পরিবেশবান্ধব, তেমনি নামমাত্র বা বিনা খরচে ঘরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি অত্যন্ত স্মার্ট সমাধান!