সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে বেশ আলোচনায় সাকিব আল হাসানের জাতীয় দলে ফেরার প্রসঙ্গ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার যে প্রভাব এবং ড্রেসিংরুমে তার যে নেতৃত্বগুণ, তা যেকোনো দলের জন্যই সম্পদ। সাকিব নিজেও বেশ কয়েকবার জানিয়েছেন লাল-সবুজের জার্সিতে খেলার ইচ্ছার কথা। ধারণা করা হচ্ছিল, পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে ফিরতে পারেন জাতীয় দলের সাবেক এ অধিনায়ক।
খোদ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিসিবির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এমনকী ক্রিকেটাররাও সাকিবকে ফেরানোর বিষয়ে কথা বলছেন। দিন দুয়েক আগে জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ যেমনটা বলছিলেন, সাকিবের মতো ক্রিকেটার দলে থাকলে অধিনায়কের কাজটা সহজ হয়ে যায়।
যদিও আপাতত সে সম্ভাবনা নেই। এরই মধ্যে পাকিস্তান সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেখানে রাখা হয়নি সাকিবকে। মূলত তার মামলার ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি না থাকায় দেশে ফেরেননি সাকিব। ফলে খেলা হচ্ছে না এই সিরিজ, অপেক্ষা আরও বাড়ছে।
ঘরের মাঠে আগামী ১১ মার্চ থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে না খেললেও আগামী মাসে নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে ফেরার আশা করছেন সাকিব। সেজন্য নিজের ফিটনেস ঠিক রাখতে কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন টাইগার সাবেক এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
এর আগে, গত ৪ মার্চ কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাকিবকে নিয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দিয়েছিলেন বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর। তিনি বলছিলেন, 'সাকিবের কাজ চলছে। বিসিবির তরফ থেকে জিনিসটা চলে গেছে মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় কাজ করছে সাথে আমাদের লিগ্যাল টিমও কাজ করছে।'
তিনি বলেছেন, ‘আসবে ইনশাআল্লাহ্ দ্রুতই। তবে সে ফিটনেস আর সিলেকশন রাউন্ড শেষে নিউজিল্যান্ড ট্যুর টাকেই বেশী প্রাধান্য দিচ্ছে।’
আসিফ আরও বলছিলেন, 'সাকিবের যে আইনগত বিষয়গুলো নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, সেগুলোর জন্য মন্ত্রণালয় ও বিসিবি একসাথে কাজ করছে। আমরা খুব আশাবাদী দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাকিবকে বাংলাদেশের ক্রিকেটে দেখতে পারব। আপনার মতো, সাকিবিয়ানদের মতো, সারা বাংলাদেশের মতো আমরাও অপেক্ষা করছি।'
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে সবশেষ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য হওয়ায় তোপের মুখে পড়তে হয়। একাধিক মামলা থাকায় দেশেও ফিরতে পারেননি। যদিও একবার দেশে ফেরার চেষ্টায় দুবাই পর্যন্ত এসে আবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছে তাকে।

