রাউন্ড অব ৩২-এ ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে মাত্র ১৫ মিনিট দূরে ছিল ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয়। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে থমাস টুখেলের দল। তবে জয় পেলেও পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা থামছে না। বরং মেক্সিকোর বিপক্ষে পরের ম্যাচের আগে ইংল্যান্ডের দুর্বলতাগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দুই ফুটবলার হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম। গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়া ও পানামার বিপক্ষে যেমন দুজনই জ্বলে উঠেছিলেন, তেমনি ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষেও দলকে টেনে তুলেছেন তারাই। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র এই দুই তারকার ওপর নির্ভর করে বিশ্বকাপে বেশি দূর যাওয়া কঠিন হবে।
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে অ্যান্থনি গর্ডন দারুণ প্রভাব ফেললেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি মার্কাস রাশফোর্ড ও ননি মাদুয়েকে। অন্যদিকে অ্যাকিলিসের চোটের কারণে বুকায়ো সাকাকেও সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করছেন টুখেল।
ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন রক্ষণভাগের ভারসাম্য। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ডান প্রান্তের ডিফেন্ডার নির্বাচন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন টুখেল। ইনজুরি ও ছন্দহীনতার কারণে একাধিক ফুটবলারকে বদলাতে হয়েছে তাকে। এমনকি ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচের শেষদিকে স্বাভাবিক মিডফিল্ডার ডেকলান রাইসকে খেলতে হয়েছে রাইট-ব্যাকে।
সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার মনে করেন, রক্ষণভাগে এখনও অনেক ফাঁক রয়ে গেছে। তার ভাষায়, ডিআর কঙ্গো একাধিক সুযোগ তৈরি করেছে, আর আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলে ইংল্যান্ডকে বড় মূল্য দিতে হতে পারত।
সাবেক ডিফেন্ডার মিকা রিচার্ডসও রাইসকে রাইট-ব্যাকে খেলানোর বিপক্ষে মত দিয়েছেন। তার মতে, রাইসের প্রকৃত শক্তি মাঝমাঠে, বিশেষ করে মেক্সিকোর বিপক্ষে উচ্চতার শহর মেক্সিকো সিটিতে তার উপস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সাবেক অধিনায়ক ওয়েইন রুনিও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, বল হারানোর পর ইংল্যান্ডের মাঝমাঠ অত্যন্ত উন্মুক্ত হয়ে পড়ছে। এই সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দলটি বড় বিপদে পড়বে।
রক্ষণভাগের পাশাপাশি সৃজনশীল ফুটবলের ঘাটতিও ভোগাচ্ছে ইংল্যান্ডকে। কোল পামার, ফিল ফোডেন, মরগান গিবস-হোয়াইট কিংবা অ্যালেক্স স্কটের মতো সৃজনশীল ফুটবলারদের দলে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে আক্রমণে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছিল ইংল্যান্ড।
স্ট্রাইকার বিভাগেও রয়েছে প্রশ্ন। হ্যারি কেইনের বিকল্প হিসেবে স্কোয়াডে থাকা অলি ওয়াটকিন্স ও আইভান টোনিকে এখন পর্যন্ত কার্যত ব্যবহারই করেননি টুখেল। চার ম্যাচে টোনি এক মিনিটও মাঠে নামেননি, আর ওয়াটকিন্স খেলেছেন মাত্র কয়েক মিনিট। এমনকি গোলের প্রয়োজন থাকা ম্যাচেও এই দুজনকে বেঞ্চেই বসিয়ে রেখেছেন ইংলিশ কোচ।
সব মিলিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স টুখেলের জন্য স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে না। সামনে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের কঠিন লড়াই। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে শুধু কেইন ও বেলিংহামের ওপর নির্ভর না করে পুরো দলকেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে। সূত্র: বিবিসি
মেসির ভাস্কর্য নিয়ে তুমুল রসিকতা
নকআউটে গোলখরা কাটবে রোনালদোর?
আফকন থেকে বিশ্বকাপ, সেনেগালের ভিএআর দুঃস্বপ্ন