ঘড়ির কাঁটায় তখন নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ। অনবোর্ড ডিসপ্লেতে জ্বলজ্বল করছে যোগ করা ৬ মিনিটের টানটান উত্তেজনা। ম্যাচ ১-১ গোলের সমতায় থাকায় গ্যালারি থেকে শুরু করে কোটি ভক্তের হৃদয়ে তখন টাইব্রেকারের দুরুদুরু কাঁপন। ঠিক তখনই ডানপ্রান্ত থেকে বিদ্যুৎ গতিতে আক্রমণে উঠলেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে নিখুঁত এক পাস বাড়ালেন বক্সের ভেতর। সেখানে ওত পেতে থাকা স্ট্রাইকার সাগরিকা যেন এই মুহূর্তটির জন্যই অপেক্ষা করছিলেন। দারুণ এক স্পর্শে নেপালের জালে বল জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ল লাল-সবুজের শিবির। ডাগআউটে কোচিং স্টাফদের উদযাপনের বাঁধ ভাঙল, আর মাঠে তখন একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন মারিয়া-সাগরিকারা। যোগ করা সময়ের এই ম্যাজিক গোলেই নেপালকে ২-১ ব্যবধানে স্তব্ধ করে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার অনন্য কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ।
এই জয় কেবল একটি ম্যাচ জয় নয়, বরং টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ঘুরে দাঁড়ানোর এক মহাকাব্য। ইতিহাস বলছে, এর আগের দুই আসরেও বাংলাদেশ শুধু ফাইনালেই ওঠেনি, ঘরে তুলেছে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। আর কাকতালীয়ভাবে, সেই দুই ফাইনালেই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ও রানার্সআপ ছিল এই নেপাল। যদিও প্রথমবার ফাইনালে ওঠার স্মৃতিটা ভারতের কাছে হেরে সুখকর ছিল না, তবে পরবর্তী সময়ে নিজেদের বদলে ফেলে বাঘিনীরা। এবারও সেই চিরচেনা নেপালকে সেমিফাইনালে হারিয়ে হ্যাটট্রিক ফাইনালের মঞ্চ প্রস্তুত করল মারিয়া মান্দার দল।