ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে পশ্চিমা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করেছে রাশিয়া। মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপের পরিষেবা দেশটিতে পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে পুতিন সরকার। আকস্মিক এই নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়ার প্রায় ১০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
রুশ যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘রসকমনডজোর’-এর দাবি, মেটা কর্তৃপক্ষ রুশ আইন মেনে চলতে এবং ‘আপত্তিকর’ তথ্য সরাতে অস্বীকৃতি জানানোয় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, মেটা যদি আইনি শর্তাবলী মেনে চলে, তবেই হোয়াটসঅ্যাপ ফেরানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বিকল্প হিসেবে ‘ম্যাক্স’ সুপার-অ্যাপ:
হোয়াটসঅ্যাপের বিকল্প হিসেবে রাশিয়া এখন নিজস্ব ‘সুপার অ্যাপ’ ম্যাক্স (MAX) প্রচারের ওপর জোর দিচ্ছে। চীনের ‘উইচ্যাট’-এর আদলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘ভিকন্টাক্টে’ (VK) এটি তৈরি করেছে। এই অ্যাপে মেসেজিং, কলিং, ব্যাংকিং লেনদেন এবং সরকারি দাপ্তরিক কাজ করা যাবে।
রুশ সরকার নির্দেশ দিয়েছে যাতে দেশটিতে বিক্রিত প্রতিটি স্মার্টফোনে এই অ্যাপটি আগে থেকেই ইনস্টল করা থাকে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এই অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নজরদারি চালাবে রাষ্ট্র।
নিশানায় টেলিগ্রাম ও ফেসটাইম:
শুধু হোয়াটসঅ্যাপ নয়, জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মস্কো। কন্টেন্ট সরাতে ব্যর্থ হওয়ায় টেলিগ্রামকে ৬৪ মিলিয়ন রুবেল জরিমানা করা হয়েছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে অ্যাপলের ভিডিও কলিং অ্যাপ ‘ফেসটাইম’ও ব্লক করেছিল রাশিয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, তথ্যপ্রবাহ সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাত থেকে তথ্য রক্ষা করতেই পুতিন সরকার এই ‘ডিজিটাল দেয়াল’ তৈরি করছে।
জেনে নিন ‘স্মার্ট ইলেকশন’ অ্যাপ ব্যবহারের নিয়ম
হোয়াটসঅ্যাপকে দেশ ছাড়ার হুঁশিয়ারি সুপ্রিম কোর্টের
