‘ইসলামি ব্যাংকিং এখনও জনগণের আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম,

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম

দেশের ইসলামি ব্যাংকিং খাত এখনো জনগণের আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, সুশাসনের ঘাটতির সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী অতীতে এই খাতে লুটপাট চালালেও আমানতকারীদের আস্থা টিকে আছে, যার প্রমাণ হিসেবে গত এক বছরে সবচেয়ে বেশি আমানত এসেছে ইসলামি ব্যাংকগুলোতে।

শনিবার (১০জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ইসলামি ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং কনফারেন্সের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গভর্নর। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ইসলামি ব্যাংকগুলো প্রচলিত ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আমানতকারীদের তুলনামূলক ভালো মুনাফা দিতে সক্ষম হয়েছে। তবে সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই খাত থেকে বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাতের সুযোগ নিয়েছে।

গভর্নর বলেন, ইসলামি ব্যাংকিং খাতের প্রতি মানুষের আস্থা এখনো অটুট রয়েছে। গত এক বছরে আমানত প্রবাহের বড় অংশ এসেছে এই খাতে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া সহায়তার অর্থ ফেরত দিয়েছে ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ, যা খাতটির সক্ষমতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জানিয়ে গভর্নর বলেন, এ লক্ষ্যে একটি পৃথক ইসলামি ব্যাংকিং আইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।

শরিয়াহ বোর্ডের ভূমিকা প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, শরিয়াহ বোর্ডকে আরও শক্তিশালী ও সাহসী হতে হবে। বোর্ড সদস্যদের চাকরির ভয় করলে চলবে না; নৈতিক অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করাই তাদের প্রধান কর্তব্য।

সুকুক বন্ড বিষয়ে গভর্নর বলেন, বেক্সিমকো সুকুক বন্ড জোরপূর্বক বিক্রির ফলে দেশের বন্ড বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে। তবে নতুন করে ইসলামি সুকুক বন্ড বাজারে আনার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

গভর্নর বলেন, দেশের ব্যাংক খাতে আর কোনো ধরনের লুটপাটের সংস্কৃতি ফিরতে দেওয়া হবে না। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি একাডেমিশিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

বিশ্বে ইসলামি ব্যাংকিং খাতকে একটি আদর্শ মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং শক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—বলেও মন্তব্য করেন গভর্নর।

AHA
আরও পড়ুন