ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে অর্থমন্ত্রীর বার্তা

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড উদ্যোগ। সোমবার (১৫ জুন) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই কর্মসূচির বাস্তবায়নে কোনো ধরনের দলীয় সম্পৃক্ততা থাকবে না। 

অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল, কিন্তু এবার সরকারি কর্মকর্তারাই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকি করবেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সুবিধা পৌঁছানো এবং প্রদত্ত অর্থ পরিবারের নারীর হাতে নিশ্চিত করার বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারিতে থাকবে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাঠ প্রশাসনকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে যাতে সরকারের এই বৃহৎ ব্যয়ের কর্মসূচির সুফল প্রকৃত মানুষের কাছে পৌঁছায়।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রাপ্তিতে সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। শুধু অর্থ সহায়তা নয়, এই উদ্যোগ দারিদ্র্য হ্রাস, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখছে, সেটিও মূল্যায়নের আওতায় থাকবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা। সেই স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে বাজেটের সুফল সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

নারীপ্রধান পরিবারকে অগ্রাধিকার দেয়া হলেও ভবিষ্যতে বিশেষ পরিস্থিতিতে নীতিমালা পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো দরিদ্র পরিবারের নারী সদস্য মারা গেলে এবং পরিবারের দায়িত্ব যদি একজন পিতা একাই বহন করেন, তাহলে ভবিষ্যতে এমন বিষয়গুলো নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

এছাড়া কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন। কৃষক কার্ডধারীরা স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এজন্য কর্মসূচিগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

বৈঠকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন ও অর্থসচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই উদ্যোগকে অনেকেই বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। সুষ্ঠু বাস্তবায়ন হলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি শুধু দরিদ্র পরিবারের জীবনমান উন্নয়নেই নয়, বরং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Attr
আরও পড়ুন