তৈরি পোশাক খাতে নগদ সহায়তা বাড়ালো সরকার

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে দেশীয় সুতা ও কাপড় ব্যবহারে উৎসাহ দিতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধার বিকল্প হিসেবে নগদ সহায়তার হার দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করেছে সরকার। বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের দাবির পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ–সংক্রান্ত নির্দেশনা বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নগদ সহায়তা পেতে রপ্তানিকারকদের দেশীয় উৎস থেকে সুতা বা কাপড় সংগ্রহের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। নতুন এ সুবিধা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক শিগগিরই চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

এর আগে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা দেশীয় সুতা ব্যবহারে উৎসাহ দিতে রপ্তানিকারকদের নগদ সহায়তা ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে উন্নীত করাসহ ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও বস্ত্রকল মালিকেরা এ দাবি তুলেছিলেন। সে সময় বিষয়টি নিয়ে নীতিগতভাবে ইতিবাচক অবস্থান তৈরি হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পরবর্তী সময়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিটিএমএ আবারও বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির পর অর্থ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠায়।

উল্লেখ্য, প্রায় আড়াই বছর আগে স্থানীয় সুতা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৪ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হতো। তবে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তা কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়। পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে সহায়তার হার আরও কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া এ নগদ সহায়তার ওপর রপ্তানিকারকদের ৫ শতাংশ করও পরিশোধ করতে হয়।

AHA
আরও পড়ুন