জ্বালানি সংকটে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম

ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা বিশ্বব্যাপী বিমান ভ্রমণকে ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত করে তুলেছে। বিশেষ করে ইউরোপ সফরের পরিকল্পনা করলে চড়া মূল্য ও ফ্লাইট বাতিলের মতো সমস্যার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মে মাসের মাঝামাঝি নাগাদ ইউরোপে জেট ফুয়েলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করবে।

ইতিমধ্যে লুফথানসা এবং কেএলএম-এর মতো বড় ইউরোপীয় বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট সংখ্যা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। অন্যান্য সংস্থাগুলো যাত্রীদের ওপর চাপ বাড়িয়ে ভাড়া ও ব্যাগেজ ফি বৃদ্ধি করছে এবং জ্বালানি সারচার্জ যোগ করছে। কিছু সংস্থা ফ্লাইট বাতিল করছে বলেও জানা গেছে।

ভ্রমণ বিশেষজ্ঞ কেটি নাস্ট্রো বলেন, ‌‘কোভিড-পরবর্তী সময়ে ভ্রমণে আমরা এত অনিশ্চয়তা দেখিনি। সাশ্রয়ী মূল্যে গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটানোর আশায় থাকা সাধারণ ভ্রমণকারীদের জন্য এটি একটি কঠিন বছর হবে।’

ভ্রমণ সার্চ ইঞ্জিন কায়াকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই বিমান ভাড়া ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ১৩ এপ্রিল একটি আন্তর্জাতিক যাত্রার গড় খরচ ছিল ১,০৬৪ ডলার, যা ২৩ ফেব্রুয়ারি ছিল ৭৭৬ ডলার। একই সময়ে অভ্যন্তরীণ ভাড়া বেড়ে ৩৫৮ ডলার থেকে ৩৩৫ ডলার হয়েছে।

প্ল্যাটস জেট ফুয়েল প্রাইস ইনডেক্স জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর জেট ফুয়েলের বিশ্বব্যাপী দাম ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর ফলে মার্কিন বিমান সংস্থাগুলো এ বছর জ্বালানিতে অতিরিক্ত বিলিয়ন ডলার খরচ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেউলিয়া স্পিরিট এয়ারলাইন্স সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছে। জ্বালানি খরচ বিমান সংস্থাগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় পরিচালন ব্যয়গুলোর একটি, যা শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের ওপরই বর্তায়।

আরও পড়ুন