কিছুদিন স্থিতিশীল থাকার পর বিশ্ববাজারে আবারও লাফিয়ে বাড়ছে মূল্যবান ধাতু সোনা ও রুপার দাম। মার্কিন অর্থনীতির ধীরগতি এবং সুদের হার কমানোর সম্ভাবনার খবরে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনাের দিকে ঝুঁকছেন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে সোনাের দাম ৫ হাজার ডলারের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার স্পট মার্কেটে সোনাের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৩৮ দশমিক ৭৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, এপ্রিলে ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনাের ফিউচার শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৬০ দশমিক ৬০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
সোনাের পাশাপাশি রুপার বাজারেও চাঞ্চল্য দেখা গেছে। আগের সেশনে দরপতনের পর বুধবার স্পট সিলভারের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮১ দশমিক ৪৯ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসে খুচরা বিক্রয় স্থবির থাকা এবং বন্ডের ফলন কমে যাওয়ায় সোনাের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এছাড়া মার্কিন উৎপাদন কার্যক্রম কমে যাওয়া অর্থনীতির গতি মন্থর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার কমানোর বিষয়ে নমনীয় অবস্থান নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত সুদের হার কম থাকলে বিনিয়োগকারীরা সোনাের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন।
ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অফ ক্লিভল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যাম্যাক বর্তমানে সুদের হার নির্ধারণে ‘সতর্কভাবে আশাবাদী’ অবস্থান নিয়েছেন। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, ২০২৬ সালের জুন নাগাদ সুদের হার হ্রাসের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
কেবল সোনা-রুপা নয়, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও বেড়েছে। স্পট প্লাটিনাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৯৮ দশমিক ৭৮ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১ হাজার ৭১২ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
এদিকে, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা ও আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে বড় বিনিয়োগকারীরা এখন ইক্যুইটি ফান্ডের চেয়ে ‘গোল্ড এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড’ (ইটিএফ)-এ বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন। বিশেষ করে জানুয়ারি মাসে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা গেছে।
সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে সোনা-রুপা
আজকের বাজারে সোনা ও রুপার দাম
