ইরান যুদ্ধ

ধ্বংসস্তূপের মাঝে তেহরানের হুঙ্কার

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

২০২৬ সালের মার্চে এসে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র জোটের মধ্যে চলমান সংঘাত এখন আর কেবল সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি তেহরানের হৃদপিণ্ডে আঘাত হানছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত তেহরান, ইসফাহান এবং খুজেস্তানের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। বিশেষ করে গিলান ও মাজান্দারান প্রদেশে আবাসিক এলাকায় পিনপয়েন্ট স্ট্রাইকের মাধ্যমে ইরানি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে গুপ্তহত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

তা সত্ত্বেও, তেহরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব পরাজয় মানতে নারাজ। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ দাবি করেছেন যে, ইসরায়েলের দিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত এটিই প্রমাণ করে যে ইসরায়েলের আকাশ এখন ‘অরক্ষিত’। আইআরজিসি (IRGC) কর্মকর্তারা একে যুদ্ধের এক ‘নতুন পর্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, তেহরানের রাস্তায় সরকার সমর্থকদের কণ্ঠে দিমোনায় পুনরায় হামলার স্লোগান শোনা গেছে।

উত্তেজনা আরও চরমে পৌঁছায় যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। এর জবাবে ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে তারা পুরো অঞ্চলের (সৌদি আরব, ইউএই, কাতার, কুয়েত) জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করে দেবে। আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো ‘বিদায় জানাও বিদ্যুৎকে!’ (Say goodbye to electricity!) শীর্ষক একটি মানচিত্র প্রকাশ করে এই হুঁশিয়ারি দেয়।

এদিকে, গত ২৩ দিন ধরে ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে দীর্ঘতম ব্ল্যাকআউট। যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত। হাসপাতাল, স্কুল ও আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ ইরানিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ কাজ করছে। প্রখ্যাত ফুটবলার আলী দাই এক বার্তায় যুদ্ধের রক্তপাত বন্ধ করে শান্তিময় ইরানের প্রার্থনা করেছেন। সংঘাতের এই আবহে ইরান এখন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ দাবি করছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

SN
আরও পড়ুন