কিউবার ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ‘একতরফা জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির সরকার। কিউবার দাবি, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো কিউবান জনগণের ওপর ‘সম্মিলিত শাস্তি’ চাপিয়ে দেওয়া।
শুক্রবার (১ মে) কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো বহির্ভুত প্রকৃতির এবং এটি সরাসরি জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন। তিনি আরও বলেন, কিউবা বা তৃতীয় কোনো দেশ বা সংস্থার ওপর এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
হোয়াইট হাউস থেকে কিউবার প্রতি নীতি আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য এলো। রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের লক্ষ্য হলো কিউবার সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলো। এছাড়া দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছে যে, কিউবা হিজবুল্লাহর মতো ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’র নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, কিউবাকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এর ফলে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে কার্যকর একটি ‘জ্বালানি অবরোধ’ তৈরি হয়েছে, যা দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে দেশজুড়ে ঘন ঘন লোডশেডিং এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
উল্লেখ্য যে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে অপহৃত হওয়ার পর থেকেই কিউবার ওপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে ওয়াশিংটন। সম্প্রতি ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ভেনেজুয়েলার পর এবার 'পরবর্তী লক্ষ্য কিউবা'। সূত্র: আল-জাজিরা
ইউরোপীয় গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের