পেন্টাগনে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ০১:১০ পিএম

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) প্রেস অফিসে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউসে আসার পর থেকে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, এটি তারই সর্বশেষ পদক্ষেপ।

পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভালদেজ সোমবার (১ জুন) জানান যে, প্রশাসন এই প্রেস অফিসটিকে একটি ‘সেনসিটিভ কম্পার্টমেন্টেড ইনফরমেশন ফ্যাসিলিটি’ হিসেবে পুনর্নির্ধারণ করেছে। যুক্তি হিসেবে তিনি জানান, গোপন সরকারি নথিতে প্রবেশাধিকার থাকা ‘স্পিচরাইটার’ বা ভাষণ লেখকেরা এখন এই অফিসটি ব্যবহার করছেন।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভালদেজ বলেন, "এই স্পিচরাইটাররা নিয়মিত গোপন নথিপত্র নিয়ে কাজ করেন এবং তাদের সুরক্ষিত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ‘সিপ্রানেট’ ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। যার ফলে, সাংবাদিকরা আর এই অফিস স্পেসে প্রবেশ করতে পারবেন না।"

তিনি আরও যোগ করেন যে, অ্যাসিস্ট্যান্ট টু দ্য সেক্রেটারি অব ওয়ার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স এবং প্রেস সেক্রেটারির অফিসে এখন থেকে কেবল আগে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করা যাবে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের ক্ষেত্রে ‘সেক্রেটারি অব ওয়ার’ পদবিটি ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করছে। এই পরিবর্তনের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

সামরিক বাহিনী ও সরকারের অন্যান্য খাতের ওপর মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর রিপোর্টিংয়ের ক্ষমতা খর্ব করতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ। এর আগে, প্রেস ক্রেডেনশিয়াল বা সাংবাদিক পাসের নতুন নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর দায়ের করা একটি মামলায় আদালত সংবাদমাধ্যমের পক্ষে রায় দেয়। এর জের ধরে গত মার্চ মাসে প্রতিরক্ষা দপ্তর ঘোষণা করে যে, সংবাদমাধ্যমগুলো আর পেন্টাগনে তাদের স্থায়ী অফিস রাখতে পারবে না।

এছাড়া পেন্টাগন জানিয়েছিল, এই কমপ্লেক্সের ভেতরে সাংবাদিকদের চলাচলের জন্য সবসময় একজন সরকারি এসকর্ট বা প্রহরীর প্রয়োজন হবে। মে মাসে দায়ের করা পৃথক এক মামলায় নিউ ইয়র্ক টাইমস এই নীতিটি বাতিলের জন্য আইনি লড়াই চালাচ্ছে।

পেন্টাগনের সর্বশেষ এই বিধিনিষেধকে গণমাধ্যমের ওপর নজরদারি কমানোর একটি "উদ্বেগজনক তীব্রতা" হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকদের মূল পেশাদার সংগঠন ‘ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব’।

সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট মার্ক শোয়েফ জুনিয়র এক বিবৃতিতে বলেন, "মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর স্বাধীন সাংবাদিকতা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়। সাংবাদিকদের যখন তাদের কভার করা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হয়, তখন আমেরিকান জনগণ কম তথ্য, কম স্বচ্ছতা এবং কম জবাবদিহিতার মুখোমুখি হয়।"

পাশাপাশি, অলাভজনক অধিকার সংস্থা ‘ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন’-ও এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে।

সংস্থার অ্যাডভোকেসি প্রধান সেথ স্টার্ন আল জাজিরাকে বলেন, "পেন্টাগনের প্রেস অফিস থেকে আজকাল প্রতারণামূলক বক্তব্য এবং সরাসরি মিথ্যা ছাড়া অন্য কিছু আসা বিরল, তাই এই জায়গাকে তারা কোন ভিত্তিতে গোপন বা ক্লাসিফাইড বলছেন তা কল্পনা করা কঠিন। পিট হেগসেথের পেন্টাগন থেকে প্রকাশিত তথ্যের একমাত্র সংবেদনশীল বা গোপন বিষয় হলো—সেগুলো সত্য নয়।" সূত্র: আল জাজিরা

YA
আরও পড়ুন