আকাশযুদ্ধে ধ্বংস হবে ভারত?

চীনের ৫০০ স্টিলথের বিপরীতে দিল্লির প্রস্তুতি শূন্য!

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৯ এএম

যদি আগামীকালই ভারত ও চীনের মধ্যে আকস্মিক কোনো যুদ্ধ বেধে যায়, তবে আকাশপথের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যেতে পারে বেইজিংয়ের হাতে।

কারণ, চীন নিমেষেই আকাশে ওড়াতে পারবে ঝাঁকে ঝাঁকে রাডার-ফাঁকি দেওয়া ‘স্টিলথ’ যুদ্ধবিমান, যেখানে ভারতের সক্ষমতা প্রায় শূন্যের কোঠায়।

প্রযুক্তির এই আকাশপাতাল ব্যবধান দিল্লির জন্য এখন আর কেবল আলোচনার বিষয় নয়, বরং এক চরম ও জরুরি নিরাপত্তা সংকট।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সাময়িকী ‘দ্য ওয়ার জোন’-এ প্রকাশিত প্রখ্যাত সামরিক গবেষক আন্দ্রেয়াস রুপব্রেখটের দাবি ভারতকে বড় চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

গবেষকের দাবি অনুযায়ী, চীনের কাছে ইতিমধ্যে প্রায় ৫০০টি তাদের সবচেয়ে আধুনিক ‘জে-২০ মাইটি ড্রাগন’ স্টিলথ যুদ্ধবিমান রয়েছে। এই সংখ্যাটি সাধারণ অনুমানের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি, যা ভারতের সামরিক পরিকল্পনাবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, চীন পৃথিবীর অন্যতম জটিল ও উন্নত এই যুদ্ধবিমান তৈরির গতি এতটাই বাড়িয়েছে যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিপরীতে আজ এই মুহূর্তে ভারতের বিমান বাহিনীর কাছে একটিও নিজস্ব স্টিলথ যুদ্ধবিমান নেই।

ইতিমধ্যে তিব্বতে ভারতের সীমানার কাছেই চীনের এই জে-২০ বিমান মোতায়েন করার খবর পাওয়া গেছে। আধুনিক যুদ্ধে এই যুদ্ধবিমানগুলোর মূল কাজই হলো শত্রুর রাডারকে ফাঁকি দিয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়া।

চিনের এই ‘স্টিলথ বিপ্লব’-এর বিপরীতে ভারতের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ বিমান ‘AMCA’ যুদ্ধক্ষেত্রে নামতে এখনো অন্তত এক দশক দেরি। ফলে ভারতের সামনে এখন জরুরি ভিত্তিতে যুদ্ধবিমান আমদানির বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই।

রাশিয়ার তৈরি ‘সু-৫৭’ বিমানটি পুরোদস্তুর স্টিলথ না হলেও, আপদকালীন সময়ে এটিই ভারতের একমাত্র ভরসা হতে পারে।

অন্যদিকে ইউরোপের ষষ্ঠ প্রজন্মের বিমানে যোগ দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলেও তা ভবিষ্যতের কথা, আগামীকালের যুদ্ধের জন্য নয়।

অবশ্য এর মানে এই নয় যে ভারতের কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। ভারত বর্তমানে স্টিলথ বিমান ধরার মতো উন্নত রাডার, সেন্সর এবং বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পেছনে বিপুল লগ্নি করছে।

তবে যুদ্ধের ময়দানে অস্ত্রের সংখ্যার একটা বড় ভূমিকা থাকে, আর সেই হিসেবে ভারতের অবস্থান এখনো চীনের চেয়ে অনেক পিছিয়ে।

দশকের পর দশক ধরে সিদ্ধান্তহীনতা এবং আধুনিক বিমান তৈরিতে দেশের ভেতরের দুর্বল শিল্পকাঠামোর কারণেই এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

তথ্যসূত্র (Source): মার্কিন প্রতিরক্ষা সাময়িকী ‘দ্য ওয়ার জোন’ (The War Zone) এবং এনডিটিভি (NDTV), শুক্রবার (১৭ জুলাই)।

HN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত