যুক্তরাষ্ট্র সফরে ৪৮টি চুক্তি সই ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৪ এএম

অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে ও দেশের অবকাঠামো পুনর্গঠনে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য পেল ইরাক। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে মোট ৪৮টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি।

শনিবার (১৮ জুলাই) ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর একটি বড় অংশই দেশটির প্রধান চালিকাশক্তি তেল ও জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট।

দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, ভঙ্গুর জনসেবা ও দুর্নীতির কারণে ইরাকের অর্থনীতি বর্তমানে বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জেরে তেল রফতানি ব্যাহত হওয়ায় রাজস্ব বাড়াতে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মিডিয়া সেল এক বিবৃতিতে জানায়, দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে মোট ৪৮টি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তি ও অংশীদারিত্ব ঘোষণা সম্পন্ন হয়েছে।

এই সফরে ইরাকের তেল ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সাথে এক্সনমোবিল, কেবিআর, জিই ভার্নোভা, শেল এবং হ্যালিবার্টনের মতো মার্কিন জায়ান্টদের চুক্তি হয়েছে। পাশাপাশি ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে একটি বৃহৎ অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন নির্মাণের বিষয়েও একাধিক চুক্তি সই হয়।

প্রযুক্তি খাতে বড় চমক হিসেবে বিশ্বখ্যাত স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের সাথে চুক্তি করেছে বাগদাদ। এর মাধ্যমে ইরাকে দ্রুতগতির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর পথ সুগম হলো।

এর আগে গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদিকে ‘চ্যাম্পিয়ন’ বলে আখ্যায়িত করেন।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সমর্থনে ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে আসা আল-জায়েদি ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে অন্য এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের পর তিনি ক্ষমতায় আসেন।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আল-জায়েদি ইরাকের অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। এসব গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসছিল।

উলেখ্য, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও প্রতিবেশী ইরান—উভয় দেশের সাথেই ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে কূটনীতি পরিচালনা করছে ইরাক।

তথ্যসূত্র: এএফপি (AFP)

HN
আরও পড়ুন