দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলী আল-তাহের পাহাড়ে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে এ হামলার খবর পাওয়া গেছে।
আলী আল-তাহের একটি কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা, যা কফর তেবনিত ও নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। নাবাতিয়েহ শহর ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথের ওপর নজরদারির জন্য পাহাড়টির অবস্থান সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়টি ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এলাকাটি ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলি বাহিনী এর আগে পাহাড়টির আশপাশে ব্যাপক বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও স্থল অভিযান চালিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে, তারা আলী আল-তাহের পাহাড়ে ‘অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানান, সেখানে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা ব্যবহৃত ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও সামরিক অবকাঠামো রয়েছে এবং ইসরায়েলি বাহিনী সেগুলো পরিষ্কার করার অভিযান চালিয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, পাহাড়টির নিচে হিজবুল্লাহর একটি ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টার, অস্ত্রের গুদাম, জেনারেটর ও যোদ্ধাদের থাকার জায়গা ছিল। অভিযানে কয়েকজন হিজবুল্লাহ সদস্য নিহত হয়েছে এবং অন্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বলেও ইসরায়েল দাবি করেছে। এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তবে হিজবুল্লাহ শুক্রবার ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটি বলেছে, আলী আল-তাহের পাহাড়ে কোনো ইসরায়েলি সেনা অবস্থান করছে না এবং তাদের যোদ্ধারা এখনো সেখানে মোতায়েন রয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে প্রবেশ বা অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিরোধের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
ফলে পাহাড়টির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি দেখা দিয়েছে। স্থানীয় লেবাননি সংবাদমাধ্যমও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণের দাবিকে খাটো করে দেখিয়েছে। এ কারণে বর্তমানে পাহাড়টির প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা কঠিন।
আলী আল-তাহের পাহাড়কে ঘিরে উত্তেজনার পেছনে এর ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়টি নাবাতিয়েহ ও আশপাশের এলাকার ওপর উচ্চতর অবস্থান তৈরি করেছে। একই সঙ্গে সেখানে হিজবুল্লাহর সম্ভাব্য ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো থাকার অভিযোগ রয়েছে। ফলে ইসরায়েলের কাছে এলাকাটি সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত কয়েক দিন ধরেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। আলী আল-তাহেরের আশপাশে ড্রোন ও বিমান হামলার পাশাপাশি ব্যাপক বিস্ফোরণ ও গোলাবর্ষণের খবরও পাওয়া গেছে। এর আগে ওই এলাকায় হিজবুল্লাহর বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন হামলার পর ইসরায়েল পাল্টা হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল।
আলী আল-তাহের পাহাড় নিয়ে এই নতুন উত্তেজনা এমন সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো কাটেনি।
পাহাড়টির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর বিপরীত দাবি এবং সেখানে অব্যাহত সামরিক তৎপরতা দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
স্টিভ আরউইনের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারের শ্রদ্ধা
ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের যোগ দেওয়া নিয়ে কোনো তথ্য নেই: জয়সোয়াল
চার মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা তেহরানের
যেকোনো সংঘাতের জন্য প্রস্তুত ইরান: কমান্ডার এলহামি