৭ শর্ত পূরণ হলেই খুলবে হরমুজ: ইরানি এমপি

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫১ পিএম

ইরানের সাতটি শর্ত পূরণ হলেই কেবল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির মুখপাত্র হাসান ঘাশঘাভি। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এক বক্তব্যে ঘাশঘাভি বলেন, এখন আর শুধু কথাবার্তার পর্যায়ে থাকার সময় নেই; বরং দুই দেশের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের সময় এসেছে।

তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য যে আলোচনার প্রয়োজন ছিল, সেই পর্যায় ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। এখন বিষয়টি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

ঘাশঘাভির ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট ও অভিন্ন। এ বিষয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইরানি এই আইনপ্রণেতা আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্বাচনের আগে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। তবে তিনি ওই চাপের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

এর আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও জানিয়েছিলেন, জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না।

ইরান গত মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যাতে শর্তগুলো পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালুর কথা বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্র কাতারের মধ্যস্থতায় ওই প্রস্তাবের জবাবও দিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।

তবে দুই দেশের মধ্যে মূল মতবিরোধ এখন শর্তগুলোর অস্তিত্বের চেয়ে সেগুলো কোন ক্রমে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে বেশি কেন্দ্রীভূত বলে আলোচনায় উঠে এসেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের বিষয়ে তেহরান তার বিস্তৃত অবস্থান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জানিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুদ্ধের আগে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে প্রণালিটি দীর্ঘ সময় বন্ধ বা সীমিত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রবাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

বর্তমানে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও ইরান একই সঙ্গে সামরিক প্রস্তুতির কথাও বলছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, তেহরান কূটনৈতিক সমাধানের ব্যাপারে আগ্রহী, তবে নতুন করে সামরিক হামলা হলে জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি খুলবে কি না, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতার অগ্রগতি এবং ইরানের নির্ধারিত শর্তগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তার ওপর।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত