গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও প্রতি ৯০ মিনিটে একজন ফিলিস্তিনি নিহত

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৪ এএম

গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলি হামলায় গড়ে প্রতি ৯০ মিনিটে একজন ফিলিস্তিনি নিহত বা আহত হচ্ছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা ইসলামিক রিলিফ। সংস্থাটি বলছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে।

আল জাজিরার ৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা ইসলামিক রিলিফের হিসাবে, যুদ্ধবিরতির পর এক বছরে অন্তত ১ হাজার ৪৫৪ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩২০টি শিশু রয়েছে—অর্থাৎ প্রায় প্রতিদিন একজন করে শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৪৭১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ১৮৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নিহত হয়েছেন চারজন এবং আহত হয়েছেন ২৮ জন।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৪ হাজার ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হন। একই দিনে মধ্য গাজার খান ইউনিসে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা।

গাজার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। জেনিনের পশ্চিমে ইয়ামুন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের সময় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের পায়ে গুলি লাগে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট।

ইসলামিক রিলিফের অভিযোগ, ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখাকে কাজে লাগিয়ে গাজার ৬৫ শতাংশ এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে প্রায় ২১ লাখ মানুষের এই ভূখণ্ডের অবশিষ্ট ৩৫ শতাংশ এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ গাদাগাদি করে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।

গাজায় কর্মরত ইসলামিক রিলিফের এক সহায়তাকর্মী নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাস্তবে সেখানে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবির ও জনাকীর্ণ এলাকায় হামলা চালানো হচ্ছে, ফলে মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ইসলামিক রিলিফের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত অথবা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। স্বাস্থ্যসেবার অর্ধেকেরও বেশি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। গুরুতর অসুস্থ ২০ হাজারের বেশি রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাচ্ছেন না বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সংস্থাটির অভিযোগ, আশ্রয় তৈরির উপকরণ, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশে ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। এতে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আশ্রয়, চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

গাজার বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে বিশ্বনেতাদের আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক রিলিফ।

সংস্থাটির বক্তব্য, শুধু নামমাত্র যুদ্ধবিরতিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয় থাকার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। তাদের মতে, গাজায় প্রাণহানি বন্ধ করা, মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

সূত্র: আল জাজিরা।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন