যুদ্ধের মধ্যেও ইরানের অস্ত্র উৎপাদন বেড়েছে আড়াই গুণ: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ৪০ দিনের যুদ্ধের পরবর্তী সাত মাসে ইরানের নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আড়াই গুণ বেড়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কয়েকটি উৎপাদন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন ও সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ি-নিক।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তালায়ি-নিক বলেন, যুদ্ধের সময়ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য দেশের অভ্যন্তরে অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহে কোনো বিরতি ঘটেনি। আগাম প্রস্তুতি, বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্র নির্ধারণ এবং বেসরকারি প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিকে এ সাফল্যের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্র ও বেসরকারি খাতের ভূমিকা

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের ভাষ্য, যুদ্ধের আগেই নিরাপদ বিকল্প স্থানে উৎপাদন কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ফলে কিছু স্থাপনা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্য এলাকায় উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হয়েছে।

এ ছাড়া দেশটির বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানে ৯ হাজারের বেশি জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলোর একটি অংশ প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

তালায়ি-নিক বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে যুদ্ধ চলাকালে অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রয়োজন মেটানোর মতো প্রস্তুতিও এখন দেশটির উৎপাদনব্যবস্থার রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অসম যুদ্ধকৌশল ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর জোর

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উন্নত প্রযুক্তি এবং ব্যাপক সামরিক শক্তি ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করেন ইরানের এই কর্মকর্তা। তাঁর দাবি, কয়েকটি আঞ্চলিক দেশও প্রতিপক্ষকে তাদের স্থাপনা ও সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে।

এর বিপরীতে ইরান উদ্ভাবন, অসম যুদ্ধকৌশল ও অর্থনৈতিক প্রতিরক্ষার ওপর নির্ভর করেছে বলে জানান তিনি। এসব কৌশলের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের তুলনায় কম ব্যয়ে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য।

তবে যুদ্ধের ফলাফল, দুই পক্ষের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি এবং উৎপাদন ব্যয়ের তুলনা নিয়ে তিনি যেসব দাবি করেছেন, সেগুলোর পক্ষে প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা পরিসংখ্যান বা বিস্তারিত প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি।

অস্ত্র রপ্তানির সম্ভাবনা, অগ্রাধিকার দেশের চাহিদা

তালায়ি-নিকের দাবি, ইরানের প্রতিরক্ষা পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা এখন দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সম্ভাব্য উদ্বৃত্ত পণ্য রপ্তানির সুযোগও তৈরি করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের অবস্থানের পর দেশটির প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, বিদেশে রপ্তানির আগে ইরানের নিজস্ব সামরিক চাহিদা পূরণই অগ্রাধিকার পাবে।

নতুন হামলা হলে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে তা দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যাওয়া তাদের জন্য কঠিন হবে। তাঁর দাবি, এ অঞ্চলে প্রতিপক্ষের সামরিক অবস্থান দুর্বল হয়েছে এবং তাদের নৌযানগুলো অঞ্চল থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।

তালায়ি-নিকের এ বক্তব্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পর্কে দেশটির সরকারি অবস্থান তুলে ধরে। তবে অস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধির হার, সম্ভাব্য রপ্তানি এবং প্রতিপক্ষের সামরিক অবস্থানসংক্রান্ত দাবিগুলো স্বাধীন সূত্রে যাচাই করা প্রয়োজন।

সূত্র: তাসনিম নিউজ

ওয়াইএ
আরও পড়ুন