জিবুতির উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবিতে ১৫ শিশুসহ নিহত ১০৯

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিবুতির উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবিতে অন্তত ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫টি শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আরও প্রায় ১১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উন্নত জীবনের আশায় জিবুতি থেকে ইয়েমেনের উদ্দেশে যাত্রা করা অভিবাসীদের বহনকারী নৌকাটি ডুবে গেলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। উদ্ধার অভিযান চললেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ ও ৯ অক্টোবরের মধ্যবর্তী রাতে জিবুতি থেকে ইয়েমেনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া নৌকাটি ডুবে যায়। এতে প্রায় ৩৫০ জন যাত্রী ছিলেন। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বরাতে আইওএম জানিয়েছে, জিবুতির ওবক শহরের উত্তরে নৌকাটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে ৫২ জন পুরুষ, ৪২ জন নারী এবং ১৫টি শিশু রয়েছে। শিশুদের মধ্যে ৯ জন মেয়ে ও ৬ জন ছেলে।

নৌকাডুবির ঘটনায় ৮০ জনের বেশি মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছেন। তাঁদের সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক বলে জানিয়েছে আইওএম। উদ্ধার হওয়া ৬৪ জনকে ওবক শহরের একটি অভিবাসী কেন্দ্রে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে নিখোঁজ প্রায় ১১৬ জনের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। জিবুতির কর্তৃপক্ষ তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

জিবুতিতে আইওএমের মিশনপ্রধান আলেক্সান্দ্রে কোয়িসাক এই ঘটনাকে প্রাণহানির ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যারা বেঁচে ফিরেছেন, যারা স্বজনদের হারিয়েছেন এবং যারা এখনো তাঁদের স্বজনদের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না, তাঁদের সবার প্রতি আইওএমের সমবেদনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর জরুরি সহায়তা দিতে সংস্থাটির কর্মীরা জিবুতির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।

কোয়িসাক বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনা অভিবাসীদের জন্য এ পথের ভয়াবহ ঝুঁকির কথা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নতি ও উন্নত সুযোগের আশায় অনেক অভিবাসী বাব আল-মান্দেব প্রণালি পেরিয়ে ইয়েমেনে যান। তাঁদের একটি অংশ পরে উপসাগরীয় দেশগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এই সমুদ্রপথে নৌযাত্রার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি, আর দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা সেই বিপদেরই পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।

আইওএমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দারিদ্র্য, নিরাপত্তাহীনতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মানুষকে এমন বিপজ্জনক যাত্রায় নামতে বাধ্য করছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিতিশীলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে। আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তৃত পরিস্থিতিও অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও চলাচলের ওপর প্রভাব ফেলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ইথিওপিয়া থেকে জিবুতিতে ২০ হাজারের বেশি মানুষের সীমান্ত পার হওয়ার ঘটনা শনাক্ত করেছে সংস্থাটি। ২০২৫ সালে ইয়েমেনের উদ্দেশে সমুদ্রপথে যাত্রা করতে গিয়ে ৯০০ জনের বেশি অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে অথবা তাঁরা নিখোঁজ হয়েছেন। একই সময়ে এই পথে যাত্রার চেষ্টা ১৮ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের মার্চে আরেকটি নৌকাডুবিতে ৯ জনের মৃত্যু হয় এবং ৪৫ জন নিখোঁজ হন।

আইওএমের মুখপাত্র কেনেডি ওমন্দি ওকোথ জানিয়েছেন, এই পথে যাত্রার চেষ্টাকারীদের অধিকাংশই ইথিওপিয়া বা সোমালিয়ার নাগরিক। তাঁদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত জিবুতিতে আটকা পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা এবং জীবন রক্ষাকারী জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে জিবুতির জন্য আরও সহায়তা দিতে দাতা সংস্থা ও সহযোগীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আইওএম। সূত্র:  টিআরটি ওয়ার্ল্ড

এএস
আরও পড়ুন