হরমুজ প্রণালির কাছে হামলায় ডুবলো দুই জাহাজ, নিহত ১

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৪ এএম

হরমুজ প্রণালির কাছে পৃথক দুটি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডুবে গেছে একটি কনটেইনার জাহাজ ও একটি বাল্ক ক্যারিয়ার।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। তবে একটি জাহাজের ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ডুবে যাওয়া জাহাজ দুটি হলো সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ (GFS Pride) এবং অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ দাও’ (Cape Dao)।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২ হাজার ৮২৪ টিইইউ ধারণক্ষমতার ছোট কনটেইনার জাহাজ জিএফএস প্রাইড হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় হামলার শিকার হয়। এতে জাহাজটিতে ক্ষয়ক্ষতি ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে জাহাজটি ডুবে যায়।

সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ) বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার প্রণালিটি অতিক্রম করার সময় জাহাজটিতে এ ঘটনা ঘটে। জাহাজের ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের কেউ আহত হননি।

অন্যদিকে, কেপ দাও নামের বাল্ক ক্যারিয়ারটি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় ডুবে যায়। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাহাজটি একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো ধরনের প্রক্ষেপিত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

সামুদ্রিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওই হামলায় জাহাজটির একজন নাবিক নিহত হন। বাকি নাবিকদের হামলার পরপরই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক জাহাজটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান পিওনিজ শিপম্যানেজমেন্ট এফজেডইর সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আইএমওর দুর্ঘটনাসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর জিএফএস প্রাইড ও কেপ দাও যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় জাহাজ, যেগুলো ডুবে গেছে।

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি। সংস্থাটি বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে এ ধরনের হামলা উসকানিমূলক, অযৌক্তিক এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মারিস্কস (MARISKS) বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তাঝুঁকি আরও স্পষ্ট করেছে। তাদের মতে, এ ঝুঁকি শুধু তেলবাহী ট্যাংকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; কনটেইনার জাহাজ ও বাল্ক ক্যারিয়ারও গুরুতর ক্ষতির শিকার হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে হামলা বাড়ছে

গত ১০ দিনে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইরান জানিয়েছে, দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং গত মাসে আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাবে হামলা জোরদার করা হচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে দেশটি। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায় ইরান।

রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে তেহরান। তেলের দাম উঁচুতে রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যেও এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।

যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে নৌপথটিতে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ পর্যন্ত হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল তেলবাহী ট্যাংকার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পণ্যবাহী ও কনটেইনার জাহাজও হামলার শিকার হচ্ছে। এসব জাহাজের কোনোটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে, আবার কোনোটি ডুবে যাচ্ছে।

এর আগে গত মার্চে মাল্টার পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘সাফিন প্রেস্টিজ’ (Safeen Prestige) একটি প্রক্ষেপিত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর হরমুজ প্রণালির উত্তরে ডুবে যায়। এ ছাড়া গত এপ্রিলে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ‘এমএসসি ফ্রান্সেস্কা’ (MSC Francesca) নামের একটি কনটেইনার জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটি জব্দ করে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন