পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ সৌদি আরব সফর শেষ করে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছেন, যেখানে তার এই সফরকে চলমান আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সফরের মাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে।
দোহায় পৌঁছানোর পরপরই কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি-এর সঙ্গে বৈঠকে বসেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। সৌদি আরব সফর শেষে কাতারে পৌঁছেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বৈঠক শেষে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় শরীফ বলেন, দোহায় তিনি তার 'প্রিয় ভাই' কাতারের আমিরের সঙ্গে অত্যন্ত উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই বৈঠকে উপসাগরীয় অঞ্চলসহ সামগ্রিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বৈঠকে উত্তেজনা প্রশমন, সংলাপের মাধ্যমে সমাধান এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, যাতে করে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, কাতারসহ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের ওপর পরিচালিত হামলার নিন্দা জানিয়েছেন তিনি এবং কাতারের জনগণের প্রতি পাকিস্তানের পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন।
শরীফ বলেন, পাকিস্তানের জনগণের পক্ষ থেকে কাতারের আমিরকে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন, কারণ কাতারের যুদ্ধবিমান পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর বিমানকে দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশের সময় অভ্যর্থনা জানিয়ে এগিয়ে নিয়ে যায় যা তিনি একটি 'অত্যন্ত উষ্ণ ও উদার' পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, এই অভ্যর্থনা কাতারের আতিথেয়তার ঐতিহ্য এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের প্রতিফলন বহন করে।
বৈঠকে দুই দেশের গভীর ও ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করা হয় এবং নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
শরীফ উল্লেখ করেন, এই অত্যন্ত উষ্ণ ও ফলপ্রসূ মতবিনিময় পাকিস্তান ও কাতারের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গভীরতা ও দৃঢ়তার প্রতিফলন।
এর আগে, কাতারে পৌঁছানোর সময় প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধিদলকে দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ বিন সুলতান আল মুরাইখি স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, বিমানবন্দরে কাতারের সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা প্রদান করে এবং পুরো শহরজুড়ে পাকিস্তানের পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছিল, যা সফরের গুরুত্বকে আরও তুলে ধরে।
এছাড়া, এই বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের প্রচেষ্টা নিয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করেছেন বলে জানানো হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা, ডন
যুদ্ধবিরতিই ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার দুয়ার খুলবে: জোসেফ আউন
হরমুজে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা চায় চীন
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরমাণু চুক্তিতে বড় অগ্রগতির আভাস
লেবাননকে বাদ দিয়ে যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়: গালিবাফ
ইসরায়েলে আরও যুদ্ধের পরিকল্পনা অনুমোদন
৩৪ বছর পর আলোচনায় বসছে ইসরায়েল-লেবানন