জাপানের উত্তর উপকূলে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর আঘাত হানতে শুরু করেছে সুনামি। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলের এই শক্তিশালী কম্পনের পর দেশটির ইওয়াতে প্রদেশের কুজি বন্দরে ইতোমধ্যে ৮০ সেন্টিমিটার (প্রায় ৩১.৫ ইঞ্চি) উচ্চতার সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়েছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জাপানি সংবাদমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিটে প্রথম ঢেউটি কুজি বন্দরে আঘাত হানে। একই সময়ে ইওয়াতের মিয়াকো বন্দর, হোক্কাইডোর উরাকাওয়া এবং আওমোরির হাচিনোহে বন্দরেও ৪০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে আবহাওয়াবিদদের শঙ্কা, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউগুলো প্রথমটির চেয়েও অনেক বেশি বিধ্বংসী হতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির কার্যালয়ে জরুরি ‘টাস্ক ফোর্স’ গঠন করা হয়েছে। হোক্কাইডো, আওমোরি, ইওয়াতে, মিয়াগি এবং ফুকুশিমা প্রিফেকচারে ৩ মিটার (১০ ফুট) পর্যন্ত উঁচু সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব এলাকার প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার বাসিন্দাকে অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে বা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটে সানকিরু উপকূলে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার। কম্পন এতটাই তীব্র ছিল যে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাজধানী টোকিও পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। ভূমিকম্পের পর ওনাগাওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দ্বীপরাষ্ট্র জাপানে প্রতি বছর গড়ে ১ হাজার ৫০০টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে আজকের এই শক্তিশালী কম্পন ও সুনামির সতর্কতা জাপানিদের মনে ২০১১ সালের সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সেবার ৯ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রে বড় ধরণের বিস্ফোরণ ঘটেছিল।
জেএমএ সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন সর্বোচ্চ ৫ মাত্রার শক্তিশালী আফটারশক বা পরবর্তী কম্পন আঘাত হানতে পারে, তাই উপকূলবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। সূত্র: এনএইচকে
জাপানে ১০ ফুট উচ্চতার সুনামির আশঙ্কা
জাপানে ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামির শঙ্কা 