লা নিনা ও এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে ঘটে যাওয়া দুই বিপরীতধর্মী জলবায়ু চক্র, যা বৈশ্বিক আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম। এই দুই প্রক্রিয়া মূলত সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, বায়ুচাপ এবং বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
লা নিনা সক্রিয় থাকলে প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলে বায়ুচাপের তারতম্য এবং শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহের কারণে উষ্ণ পানির একটি বড় অংশ পশ্চিম দিকে সরে যায়। এর ফলে পেরু উপকূলসহ দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম তীরবর্তী সমুদ্রপৃষ্ঠ তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ায় পরিবর্তন দেখা দেয়।
অন্যদিকে এল নিনো হলো এর সম্পূর্ণ বিপরীত একটি অবস্থা। দক্ষিণ গোলার্ধের বায়ুপ্রবাহের স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হলে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠ অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল, যেমন পেরু, এই উষ্ণতার সরাসরি প্রভাবের মধ্যে পড়ে। বিজ্ঞানীরা এখনো এই প্রক্রিয়ার জটিলতা ও দীর্ঘমেয়াদি আচরণ পুরোপুরি বোঝার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, আর্কটিক অঞ্চলে সমুদ্রের বরফের বিস্তার গড়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে, যা ওই মাসের জন্য সর্বনিম্ন রেকর্ড। এটি বৈশ্বিক উষ্ণতার সঙ্গে সমুদ্র ও জলবায়ু চক্রের গভীর সম্পর্ককে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
সমুদ্র উষ্ণ হলে যা হয়
সমুদ্র পৃথিবীর অন্যতম প্রধান তাপাধার হিসেবে কাজ করে। মানবসৃষ্ট অতিরিক্ত তাপের একটি বড় অংশ এটি শোষণ করে বৈশ্বিক জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে এই ভারসাম্যও বদলে যায়।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের আয়তন প্রসারিত হয়, আর আর্কটিক অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলতে শুরু করে। এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ধীরে ধীরে বেড়ে যায়, যা উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করে।
এছাড়া উষ্ণ সমুদ্র ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি ও তীব্র আবহাওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। বায়ুপ্রবাহের স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হলে কোথাও অতিবৃষ্টি, আবার কোথাও খরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার অঞ্চলেও এই পরিবর্তনের প্রভাব দেখা যেতে পারে।
কবে সক্রিয় হতে পারে এল নিনো?
ওয়ার্ল্ড মিটিওরজিকাল অর্গ্যানাইজেশন বলছে-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে মে সময়কালে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য-পূর্ব অংশে এনসো-নিরপেক্ষ অবস্থার সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ।
এই পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়ে জুলাইয়ের শেষ কিংবা আগস্টের শুরুতে এল নিনো সক্রিয় হতে পারে। তবে এর প্রভাব কতটা শক্তিশালী হবে এবং কতদিন স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও বায়ুপ্রবাহের ভবিষ্যৎ আচরণের ওপর।
ভয়ংকর রূপে ফিরছে এল নিনো, বাংলাদেশে কেমন প্রভাব পড়বে?
এপ্রিলজুড়ে তাপপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ের আভাস
নামিবিয়ার ‘সবুজ জ্বালানি’র স্বপ্নে অস্তিত্ব সংকটে পেঙ্গুইন